রোববার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪, ঢাকা

দর্শক শুধু আমার কাজ না, আমাকেও পছন্দ করেন: বাঁধন 

রাফিউজ্জামান রাফি
প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৪:০১ পিএম

শেয়ার করুন:

দর্শক শুধু আমার কাজ না, আমাকেও পছন্দ করেন: বাঁধন 

দেশের অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে যারা নিজেদের অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম আজমেরি হক বাঁধন। ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ সিনেমা দিয়ে দ্যুতি ছড়িয়েছেন অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ কান চলচ্চিত্র উৎসবে। এরপর ওয়ের সিরিজ ‘গুটি’ দিয়ে দর্শকদের মস্তিষ্কে নাড়া দেন। এবার আসতে চলেছে বাঁধন অভিনীত প্রথম বলিউড সিনেমা ‘খুফিয়া’। প্রকাশ পেয়েছে সিনেমাটির ট্রেলার। সেখানে বাঁধনের উপস্থিতি অল্প হলেও রেশ ছিল পুরোটা জুড়ে। যা সন্তুষ্ট করেছে তার দর্শকদের। ফলে তিনি ভাসছেন প্রশংসায়। সেই অনুভূতি প্রকাশসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাঁধন কথা বলেছেন ঢাকা মেইলের সঙ্গে।

‘খুফিয়া’র ট্রেলার প্রকাশ পেতেই ভাসছেন প্রশংসায়। আগে থেকেই কি এরকম প্রত্যাশা ছিল— জানতে চাইলে বাঁধন বলেন, ‘‘বিশাল ভরদ্বাজের কাজের জন্য তো সবাই অপেক্ষা করেন। সঙ্গে যদি টাবু থাকেন তাহলে সেটা আরও বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। কেননা এরইমধ্যে তারা একসঙ্গে বেশকিছু চমৎকার কাজ উপহার দিয়েছেন। বিশাল ভরদ্বাজ ও টাবুর কোলাবরেশনটা যখন হয় তখনই তারা খুবই ভালো কাজ করেন। সেই জায়গা থেকে রেসপন্সটা এরকম হবে বলে প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু এর আগেও বলেছি এই সিনেমায় আমার চরিত্রের দৈর্ঘ্য বেশি না। খুবই ছোট্ট চরিত্রে অভিনয় করেছি। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র কিন্তু ছোট। তবে ট্রেলারে ওই অল্প সময়ে আমাকে টাবুর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে দেখে দর্শক যেভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সেটা আমাকে অনেক আনন্দ দিয়েছে এবং ভালো লেগেছে। কারণ ‘রেহানা’ (রেহানা মরিয়ম নূর) থেকেই দেখছি যারা আমাকে পছন্দ করে তারা আসলেই পছন্দ করেন। এখানেও খুব ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছি। তারপরও তারা আমাকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত যে আমি টাবুর মতো অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করেছি। যদিও এটা আমার জন্য অনেক বড় ব্যাপার। ছোট চরিত্র হলেও ওনার মতো অভনেত্রীর সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি। আর বিশাল ভরদ্বাজ তো বিশাল ভরদ্বাজই। আমি বলব ওনার সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। ওনার পরিচালনায় কাজ করেছি এটা আমাকে সমৃদ্ধ করেছে।’’


বিজ্ঞাপন


সদ্য প্রকাশিত ট্রেলার, পূর্ব প্রকাশিত টিজারে বাঁধনের উপস্থিতি অল্প হলেও দর্শকের মস্তিষ্কে ছিলেন অনেক্ষণ। এ থেকে বোঝা যায় চরিত্রটি বিশেষ। এরকম চরিত্রের জন্য প্রস্তুতিটা কেমন ছিল? প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয় বাঁধনকে।

guti

জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রথমত আমার ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা ছিল। কারণ ভাষাটা হিন্দি। আর আমার চরিত্রটি বাংলাদেশি। বাংলাদেশি একজন মানুষ হিন্দি বললে যেভাবে বলবে আমাকে সেভাবে বলতে হয়েছে। কিন্তু হিন্দিটা তো আমাকে স্বাভাবিকভাবেই আয়ত্ত্বে রাখতে হয়েছে। তা ছাড়া বাংলা সংলাপও আছে। সেটা টাবুও দিয়েছেন আমিও দিয়েছি। যেহেতু বাংলাদেশি চরিত্র সেহেতু ওদের সঙ্গে চরিত্রটার হিন্দি বলা মিলবে না। এটা আমার একটা সুবিধা ছিল। আর বাংলাদেশি চরিত্রের কারণে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি।’

চরিত্রে মিশে যেতে কষ্ট না হলেও ভয় কাজ করেছে বাঁধনের ভেতর। এমনটা উল্লেখ করে বলেন, ‘এরকম চরিত্র আমার আগে করা হয়নি। আর ভয় কাজ করার কারণ ওনার (টাবু) মতো মানুষের সঙ্গে কাজ করব এটা ভেবে। স্পষ্ট মনে আছে প্রথম দিন আমার পা হাঁটু পর্যন্ত কাঁপছিল, হাতও কাঁপছিল। কারণ আমি টাবুর সঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছি। কিন্তু তিনি এত ভালো একজন মানুষ যা বলার মতো না। এমনিতেই উনি অসম্ভব ভালো একজন অভিনেত্রী, ঝুলিতে অসংখ্য পুরস্কার রয়েছে। আগে থেকেই আমার পছন্দের। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে ব্যক্তি টাবুকে দেখেছি যিনি অসাধারণ মানুষ। এক কথায় কাজ করতে গিয়ে আমি তার প্রেমে পড়ে গেছি। এত ভালো অভিনেত্রীও এত ভালো মানুষ হয়, সহশিল্পীকে সম্মান করতে জানে! যেটা ওনার সঙ্গে কাজ না করলে বুঝতাম না। বিশাল ভরদ্বাজের ক্ষেত্রেও একই অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার। কারণ এ ধরনের চরিত্র আগে না করলেও ওনার সহযোগিতায় সব সহজ হয়ে গেছে।’


বিজ্ঞাপন


স্রোতের জোয়ারে ভেসে দুহাতে কাজ করেন না বাঁধন। তবে বেছে বেছে যেকটা কাজ করে তার সবই সোনা ফলায়। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘হয়ত দর্শক আমাকে ভালোবাসেন, এজন্য। তা ছাড়া প্রথমেই বলেছি আমার যারা দর্শক তারা শুধু আমার কাজই না, আমাকেও পছন্দ করেন। এটা হয়ত আমাকে আরেক ধরনের জোনে ফেলে দেয়। এর আগে যখন কাজ করেছি তখনও দেখেছি। যেমন ‘রেহানা’র পর আমাকে সবাই ভীষণভাবে অ্যাপ্রিশিয়েট করেছেন। আমি যে ওই সময় হার্ডওয়ার্ক করেছি তার জন্যও প্রশংসা করেছেন। ওই জায়গা থেকে বলব দর্শকরা আমাকে ব্যক্তিগতভাবেও পছন্দ করেন। এ কারণেই আমার যখন যে কাজ আসে তারা আগ্রহ নিয়ে দেখেন এবং সাধুবাদ জানান।’’

khufia

জানা গেছে, বাঁধনের আগে ‘খুফিয়া’য় অভিনয়ের প্রস্তাব এসেছিল বাংলাদেশের বিদ্যা সিনহা মিম ও মেহজবীন চৌধুরীর কাছে। কিন্তু গল্পে বাংলাদেশ নিয়ে নেতিবাচক বিষয় থাকায় এতে অভিনয় করতে রাজি হননি তারা। এরপর বাঁধনের কাছে প্রস্তাব নিয়ে গেলে, তিনি তা লুফে নেন। কারণ জানতে চাইলে অভিনেত্রী বলেন, ‘এই প্রশ্নের উত্তর আমি দেব না। কারণ এটা যারা বলেছেন তাদের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলে এই পরিপ্রেক্ষিতে লেখা উচিত। আর আমি যেটা বলব আমি আসলে বিশাল ভরদ্বাজের সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছি। এছাড়া অডিশন দেওয়ার পর তিনি যখন আমাকে নির্বাচন করেছেন তখন তো না বলার কোনো সুযোগ নেই।  তাছাড়া আমার কো আর্টিস্ট যেখানে টাবু, নির্মাতা বিশাল ভরদ্বাজ সেখানে আমি সিলেক্টেড হওয়ার পর সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।’

ওয়েব সিরিজ ‘গুটি’ দ্বিতীয় অধ্যায় আসবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘খবরটা আমি জানি না। এটা চরকি বলতে পারবে। তবে ‘গুটি’ করে আমি অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি দর্শকের থেকে। এর দ্বিতীয় কিস্তি আসবে কি না বলতে পারছি না।’’

সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে দেশের জাতীয় দলের ক্রিকেটার তানজিম সাকিবের একটি পুরোনো পোস্ট। নেটিজেনদের মতে সেখানে নারীর প্রতি এই তরুণ টাইগারের বিদ্বেষী মনোভাব স্পষ্ট। এদিকে পেশাগত জায়গায় বাঁধন যেমন সচেতন তেমনই নারীর অধিকার ও স্বাধীনতার ব্যাপারে। এ নিয়ে মতও প্রকাশ করে থাকেন তিনি। চেষ্টা করেন নারীকে উদ্বুদ্ধ করতে।

rehana

ওই জায়গা থেকে তানজিম  সাকিব সম্পর্কে মন্তব্য জানতে চাইলে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে ওনাকে নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। কিন্তু যদি সার্বিক দিক বিবেচনা করে বলি তবে আমাদের সমাজ ব্যবস্থাটাই নারী বিদ্বেষী। এই সমাজ ব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা বেশিরভাগ পুরুষ ও নারী-ই নারী বিদ্বেষী। আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এই শিক্ষাই দিচ্ছে। যারা এখান থেকে বের হতে পারছে তারা এক্সেপশনাল অথচ এটাই স্বাভাবিক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আপনি দেখবেন নারী বিদ্বেষী মনোভাব আমাদের সমাজ ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে আছে। সেকারণে এ ধরনের মন্তব্যে আমি অবাক হইনি।’

এরকম তানজিম সাকিব দেশে বিভিন্ন অঙ্গনে আছে বলে মনে করেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অনেককেই দেখেছি এরকম মনোভাবাপন্ন। অনেক নারীকেও দেখেছি নারী স্বাধীনতা বা অধিকারের ব্যাপারে সচেতন তো নয়ই বরং যারা এই ব্যাপারগুলো নিয়ে কথা বলে তাদেরও লাঞ্চিত করেন। এটা সমাজ ব্যবস্থার সমস্যা। একজন ব্যক্তি কখনও এরজন্য দায়ী না। সমাজের বেশিরভাগ মানুষই এরকম চিন্তা করে। শুধু পুরুষ না, নারীও। কারণ পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা একজন নারী একজন পুরুষের চেয়ে আরও ভয়ংকর। কারণ সে নিজের স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তা  তো বুঝছেই না আর অন্য কেউ যদি বলে সেক্ষেত্রেও তাকে দমাতে পাহারাদারের মতো কাজ করছে।’

আগামী ৫ অক্টোবর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাবে ‘খুফিয়া’। বিহসাল ভরদ্বাজ নির্মিত এ সিনেমার প্রযোজক জেরেমি চুয়া। কান উৎসব থেকে ফেরার পর বাংলাদেশে ‘খুফিয়া’র একটি টিম বাঁধনের অডিশন নেয়। এরপর লুক টেস্টের জন্য ২০২১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ে যান বাঁধন। সেখানে সাত দিন ছিলেন। মূল শুটিং শুরু হয় সে বছরের ১১ অক্টোবর থেকে। এ ছবিতে বাঁধন, টাবু ছাড়াও অভিনয় করেছেন আলী ফজল, আশীষ বিদ্যার্থীসহ অনেকে।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর