মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ঢাকা

মিষ্টি মেয়ের হারিয়ে যাওয়ার দিন

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০২২, ০১:২৪ পিএম

শেয়ার করুন:

মিষ্টি মেয়ের হারিয়ে যাওয়ার দিন

চিত্রনায়িকা কবরীর মিষ্টি হাসির সাথে পরিচিত নন এমন মানুষ কমই আছেন। এই  হাসিতে আজও বুঁদ হয়ে আছেন এদেশের সিনেমাপ্রমীরা। তারা ভালোবেসে তাকে নাম দিয়েছেন ‘মিষ্টি মেয়ে’। মিষ্টি হাসি দিয়ে বাঙালির হৃদয়হরণ করেছিলেন তিনি। ফলস্বরূপ দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার অর্জিত জনপ্রিয়তা মেপে দেখা কারও পক্ষে সম্ভব না।

কবরী ১৯৫০ সালে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিকভাবে তিনি পরিচিত ছিলেন মীনা পাল নামে। ১২ জন ভাইবোনের মধ্যে একেবারেই আলাদা ছিলেন তিনি। নাচে-গানে ও অভিনয়ে ছিলেন অতুলনীয়।


বিজ্ঞাপন


কিশোরী বয়সেই চলচ্চিত্রে নাম লেখান কবরী। শুরুটা হয়েছিল কিংবদন্তী নির্মাতা সুভাস দত্তের হাত ধরে। সুভাস দত্ত তার নতুন ছবির জন্য নায়িকা খুঁজছিলেন। সিনেমাটির নাম ‘সুতরাং’ । সেসময় মীনা পালকে নায়িকা হিসেবে মনে ধরে তার। এভাবেই ‘সুতরাং’ সিনেমার মাধ্যমে পর্দায় পা রেখে মীনা পাল হয়ে যান কবরী।

kobori

প্রথম ছবিতেই নিজের হাসি ও অভিনয় গুণ দেখিয়েছিলেন কবরী। ‘সুতরাং’ তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও খ্যাতি এনে দিয়েছিল। সিনেমাটি ১৯৬৫ সালে ‘ফ্রাঙ্কফুট আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে’ সেরা দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ক্যাটাগরিতে পুরস্কার লাভ করে।

এই অর্জনের পর পেছনে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। পর্দায় কখনও হাজির হয়েছেন ‘সারেং বউ’ হয়ে। কখনও দেখা গেছে তাকে দেবদাসের বিরহে কাতর ‘পার্বতী’ রূপে। চরিত্রগুলো আলোড়ন তুলেছিল  দর্শকের হৃদয়ে।


বিজ্ঞাপন


ফলে জনপ্রিয়তার সিঁড়ি বেয়ে মিষ্টি হাসির মেয়েটি চলে যান সাফল্যের শিখরে। এসময় কবরী তার সমসাময়িক নায়কদের অনেকের সাথে জুটি বেঁধেছেন। এদের মধ্যে ফারুক, সোহেল রানা, বুলবুল আহমেদ, নায়করাজ রাজ্জাক ছিলেন অন্যতম। এই জুটিগুলো বেশকিছু কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়েছেন। তার মধ্যে ‘সারেং বউ’, ‘দেবদাস’, ‘মাসুদ রানা’, অন্যতম।

rajjak kobori

কবরীর ক্যারিয়ারে সবচেয়ে সফল ছিল রাজ্জাক-কবরী জুটি।  তাদের রসায়ন সমাদরে গ্রহণ করেছিলেন এদেশের সিনেমা পাগল মানুষ।  ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘রংবাজ’সহ অসংখ্য দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন তারা। ফলে আজও এই জুটিকে বাংলা সিনেমার সেরা জুটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

কবরীর দেশের প্রতি টান ছিল অগাধ। সেই টান থেকেই ১৯৭১ সালে তিনি ঝাপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। সেসময় দেশের প্রতি জনমত গড়ে তুলতে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে সভা-সমাবেশ করেছেন এই নায়িকা। পাকবাহিনীর নৃশংসতার বর্ণনা তুলে ধরেছিলেন বিশ্ববাসীর সামনে।

sareng bou

বিশ্বজুড়ে মহামারির রুপ নিয়ে এসেছিল প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। সেই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। সেসময় অনেকের মতো তিনিও পেরে ওঠেননি কোভিড ১৯’র সাথে। বেশ কিছুদিন মৃত্যুর সাথে লড়ে এই দিনে (১৭ এপ্রিল) শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই নায়িকা।

বছর ঘুরে আবার ফিরে এসেছে দিনটি। সব আছে শুধু মিষ্টি মেয়েটি নেই। তবে শারীরিকভাবে না থাকলেও তিনি রয়েছেন মানুষের হৃদয়ে। থাকবেন অনন্তকাল।

আরআর 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর