রমজানের অজুহাতে ঢাবির ক্যান্টিনে দাম বৃদ্ধি, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: ২৪ মার্চ ২০২৩, ০৯:০১ পিএম

শেয়ার করুন:

এবার যখন রমজান শুরু হয়েছে তখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি চরম পর্যায়ে। প্রতিটি জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। এই ধাক্কা লেগেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনগুলোতেও। রমজানের অজুহাত এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির দোহাই দিয়ে অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হয়েছে খাবারের দাম। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জন্য এই বাড়তি খরচে খাবার খেয়ে হলে থাকাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার (২৪ মার্চ) প্রথম রোজায় হল ক্যান্টিনে গিয়ে খাবারের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। শুধু মাস্টারদা সূর্য সেন হলের মেনু নিয়ে কথা বলা যাক। গরুর মাংস দিয়ে সেহেরি করতে হলে দিতে হবে ৯০ টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দাম ধরা হয়েছে চিংড়ি মাছের। কেবল ৮০ টাকা দিলেই জুটবে চারটি মাঝারি আকৃতির গলদা চিংড়ি। মুরগির মাংস, রুই মাছ, সরপুঁটি, পাবদা, কৈ, টেংরা এবং কাতল খেতে হলে প্রতি শিক্ষার্থীকে গুনতে হবে ৭০ টাকা করে। অথচ এই রুই মাছের দাম গতকালও ছিল ৪০ টাকা; ৭০ টাকায় মিলত গরুর মাংস।

দিনের ব্যবধানে খাবারের এমন আকাশচুম্বী দামে কপালে ভাঁজ পড়েছে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের। কেউবা কষতে বসেছেন মাসের বাকি অংশের হিসাব। স্বাভাবিক হিসাবে যেখানে দিনে ১০০ টাকায় তিন বেলা খাওয়া যায় সেখানে শুধু সেহেরিতে প্রতি শিক্ষার্থীকে গুনতে হচ্ছে ৭০ টাকারও বেশি।

হলে থাকা শিক্ষার্থীদের দাবি- প্রতি বছর খাবারের মান বৃদ্ধির অজুহাতে দাম বাড়ানো হয়। দাম বাড়লেও খাবারের যথাযথ মান ও পুষ্টি গুণ নিশ্চিত করে না কেউই। শিক্ষার্থীরা খাবারের এমন দাম বৃদ্ধিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চায়। তাদের দাবি, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে ক্যান্টিন মালিকরা দাম বাড়ানোর সুযোগ পায়।

তবে এমন অভিযোগ স্বীকার করতে নারাজ ক্যান্টিন মালিকরা। তাদের দাবি, দ্রব্যমূল্য বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই সব খাবারের দাম বেড়েছে। তাছাড়া রমজান মাস উপলক্ষে খাবারের মান, পুষ্টিগুণসহ খাবারের পরিমাণ বাড়ায় আগের তুলনায় খাবরের দাম বেশি রাখা হয়। তবে এসব যুক্তিকে অযৌক্তিক এবং দাম বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।

সূর্যসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী জোবায়ের হোসেন ঢাকা মেইলকে জানান, পরিবারের আর্থিক সংকটে টিউশনি করে নিজের খরচ নিজেই চালান। কিন্তু রমজান মাসে খাবারের দাম বাড়ায় অতিরিক্ত দামে খাবার খাওয়া তার জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এভাবে আর কত চলবে এমন চিন্তা পেয়ে বসেছে তাকে।

সূর্যসেন হলের জোবায়েরের মতো একই অভিযোগ বঙ্গবন্ধু হলের বোরহানের। তিনি জানান, রমজানের প্রথম কয়েক দিন দাম বাড়িয়ে খাবারের কিছুটা মান ভালো করার ভান করে। তবে এই মান দুই দিন পরই ফিকে হয়ে যায়। কমে যায় খাবারের মান। শিক্ষার্থীরা বারবার এই বিষয়ে প্রশাসন কিংবা ব্যবস্থাপনার কাজে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের জানালেও আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যায় না। প্রতি রমজানে খাবারের এমন ঊর্ধ্বগতির ফলে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থীরা।

রমজানে খাবারের এমন অস্বাভাবিক দাম রাখার কারণ জানতে চাইলে সূর্য সেন হলের ক্যান্টিন মালিক ফাহিম ঢাকা মেইলকে বলেন, বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেশি। তাই স্বভাবতই আমাদের দাম বেশি রাখতে হচ্ছে। তাছাড়া রমজান উপলক্ষে ছাত্রদের আরেও ভালো খাবার নিশ্চিত করতে হয়; তাই খরচও পড়ে বেশি। খাবারের দাম কমলে আমরাও দাম কমাব।

তবে দিনের ব্যবধানে খাবারের মিলপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, গরুর মাংসের দাম অনুসারে কমটাই রাখার চেষ্টা করছি। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ছাত্রদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দাম বাড়াতেই হচ্ছে আমাদের।

প্রতিনিধি/জেবি