সোমবার, ১৭ জুন, ২০২৪, ঢাকা

ডাকসু নির্বাচনে বাধা কোথায়?

এম এইচ ইমরান
প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০২৩, ০৬:৫৭ পিএম

শেয়ার করুন:

ডাকসু নির্বাচনে বাধা কোথায়?
ফাইল ছবি

আজ থেকে ঠিক চার বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচন হয়েছিল। ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনের পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা আশায় বুক বেঁধেছিলেন- এখন থেকে প্রতি বছর ডাকসু নির্বাচন হবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের পক্ষে কথা বলবে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এক বছর পরপর ডাকসু নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু ইতোমধ্যে চার বছর কেটে গেলেও এ ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো তৎপরতা নেই। ছাত্রলীগসহ ক্যাম্পাসে সক্রিয় সব সংগঠন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা পুনরায় ডাকসু নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু অজানা কোনো কারণে আটকে আছে এই নির্বাচন।

দীর্ঘ অচলাবস্থা ভেঙে ২০১৯ সালের ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের সর্বশেষ নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে ২৫ পদের ২৩টিতেই জয় পান ছাত্রলীগ প্যানেলের নেতারা। শুধু ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে জয় পান ছাত্র অধিকার পরিষদের নুরুল হক ও আখতার হোসেন।


বিজ্ঞাপন


বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতি, সিনেট, সিন্ডিকেট, কর্মকর্তা–কর্মচারী সমিতিসহ সব পর্যায়ের নির্বাচন নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শুধু হচ্ছে না ছাত্রদের অংশগ্রহণের এই নির্বাচন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলো বরাবর ডাকসু নির্বাচনের দাবি জানালেও প্রশাসন বরাবরই ‘গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং উপর মহলের অনুমতির’ কথা বলে দায়সারা গোছের বক্তব্য দিয়ে আসছে।

11

তবে গতকাল শুক্রবার (১০ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ডাকসু নির্বাচন না হওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই দুষলেন। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। ডাকসু নির্বাচনে কখনো ক্ষমতাসীন হস্তক্ষেপ করে না। এমন বক্তব্যের পরে শিক্ষার্থীদের মনে প্রশ্ন উঠেছে- ডাকসু নির্বাচন না হওয়ার পেছনে তাহলে কলকাঠি নাড়ছে কারা?


বিজ্ঞাপন


২০১২ সালে ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে উচ্চ আদালতে একটি রিট হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ঢাবির একটি সমাবর্তনে ডাকসু নির্বাচনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তারপরও কিছু হয়নি। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালে ১৭ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ ছয় মাসের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঢাবি কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন।

তখনও প্রশ্ন উঠে- বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য উচ্চ আদালতে নির্দেশনার ওপর নির্ভর করতে হলো কেন বা কেন আদালত থেকে নির্দেশনা আসতে হলো? ডাকসুর একটি গঠনতন্ত্র রয়েছে এবং এর অস্তিত্ব রয়েছে ১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্সে। ডাকসুর গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে, প্রতি বছর ডাকসু নির্বাচন হবে।  কীভাবে হবে, কাদের নিয়ে হবে সেগুলো বিস্তারিত বলা আছে সেই গঠনতন্ত্রে। কিন্তু সবকিছু লিখিত থাকার পরেও  ২৮ বছর পর ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচন আলোর মুখ দেখে। তখন সাধারণ শিক্ষার্থীরা আশা করেছিলেন, অচলাবস্থা কেটে যাওয়ায় এখন বোধহয় প্রতি বছরই এই নির্বাচন হবে। তবে সেই নির্বাচনের পর চার বছর কেটে গেলেও ডাকসু নির্বাচনের কোনো আভাস দেখা যাচ্ছে না।

22

সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের পথ রুদ্ধ করতে এবং প্রশাসনের খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথ সুগম করতে ডাকসু নির্বাচনে গড়িমসি করছে প্রশাসন। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি  সাদেকুল ইসলাম সাদিক ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, এটা পুরো দেশের রাজনীতির সাথে জড়িত। তাই ক্ষমতাসীন সরকার বিরোধী দলের কাউকে ডাকসুর ক্ষমতায় দেখাকে হুমকি মনে করে। বিরোধী দল এবং মতকে নির্মূলের অংশই হচ্ছে ডাকসু নির্বাচন না হওয়া। আমরা এর আগে ৯ মার্চ ডাকসু নির্বাচনসহ দশ দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছি এবং আগামীতে ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের একজন প্রতিনিধি থাকুক। যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি-দাওয়ার কথা জানাতে পারবে।’

ডাকসু নির্বাচন চায় ক্ষমতাসীন সরকারের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগও। তাদের দাবি ডাকসু নির্বাচন করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর অনেকবার দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কেন করছে না তা বোধগম্য নয়। ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং ডাকসুর সাবেক সদস্য তানভীর হাসান সৈকত ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমরা চাই ডাকসু নির্বাচন হোক। ডাকসু নির্বাচন হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষিত হয়। এরজন্য প্রশাসনকে অনেকবার জানানো হয়েছে। আগে প্রশাসন করোনার ওজুহাত দেখালেও এখন কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না জানা নেই।’ ডাকসু নির্বাচন হলে প্রতিবারের মতো ছাত্রলীগই নিরঙ্কুশ জয়ী হবে বলে দাবি তার।

পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন কবে হবে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটা আমাদের নিশ্চয়ই ভাবতে হবে। একটা সুন্দর পরিবেশও খুব জরুরি। সেটার জন্যই মূলত অপেক্ষা করছি।’

প্রতিনিধি/জেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর