শুক্রবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৪, ঢাকা

শাটল ট্রেনের চাবি নিয়ে চলছে কাড়াকাড়ি 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:০৪ পিএম

শেয়ার করুন:

শাটল ট্রেনের চাবি নিয়ে চলছে কাড়াকাড়ি 

প্রক্টরের খারাপ আচরণের অভিযোগ তুলে চালকের কাছ থেকে চাবি  হাতিয়ে নিয়ে ট্রেনটি আটকিয়ে দেন শাখা ছাত্রলীগের আরেক উপপক্ষ কনকর্ডের নেতা-কর্মীরা। মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) বিকাল ৩টা ৫০ মিনিটে শহর থেকে ছেড়ে আসা শাটলট্রেন ফতেয়াবাদ স্টেশনে এসে পৌঁছালে চালকের কাছ থেকে চাবি হাতিয়ে নিয়ে ট্রেনটি আটকান তারা। 

এরপর একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শহর থেকে বিলম্বে ছেড়ে আসা শাটল ট্রেন ক্যাম্পাসে এসে পৌঁছালে আবারও চাবি নিয়ে যায় ইফতেখার আয়াজ নামের এক ছাত্রলীগের কর্মী। সিনিয়রদের না জানিয়ে চালকের চাবি নিয়ে যাওয়ার কারণে তাকে মারধর করে কনকর্ডের অন্য কর্মীরা। 


বিজ্ঞাপন


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, বিকাল চারটার আটক শাটল ট্রেন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ক্যাম্পাসে আসলে আবারও চালকের কাছ থেকে চাবি হাতিয়ে নেয় এক ছাত্রলীগ কর্মী। সিনিয়রদের না জানিয়ে চালকের চাবি নিয়ে যাওয়ার কারণে তাকে মারধর করে অন্য ছাত্রলীগ কর্মীরা। এরপর আমরা পুলিশ প্রশাসন যেয়ে তাদের আটকাই। 

জানা যায়, ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতাকে শিক্ষক পদে নিয়োগের সুপারিশ না করায় গতকাল সোমবার (৩০ জানুয়ারি) বিকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্যের কক্ষ ভাঙচুর করে শহরগামী সাড়ে ৫টার শাটলট্রেনও রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত আটকিয়ে রাখে শাখা ছাত্রলীগের উপপক্ষ একাকারের কর্মীরা। ঘটনাটি স্বীকারও করেছেন একাকারের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মইনুল ইসলাম রাসেল। 

এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে শাখা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা কমিটি বর্ধনের দাবিতে ৪বার বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলানোর পাশাপাশি ৩বার শাটল ট্রেন অবরোধ ও ১বার শাটল ট্রেনের চালককে অপহরণ করে। এছাড়া পরিবহন দপ্তরেও ১বার তালা ঝুলায় তারা। এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

এদিকে গত ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলানো, শাটল ট্রেন অবরোধসহ একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম মনিরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ। 


বিজ্ঞাপন


ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আতহার ঢাকা মেইলকে জানান, কয়েকদিন পরপর শাটল ট্রেন অবরোধ করা হয়। এতে আমরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। ক্লাস, টিউশন থেকে ধরে আরও বহু কাজকর্মে ব্যঘাত ঘটতেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি এ বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপের নেয়ার অনুরোধ। 

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু ঢাকা মেইলকে বলেন, গতকাল থেকে এ পর্যন্ত পরপর কয়েকবার শাটল ট্রেনের চালকের চাবি নিয়ে যাওয়ার ঘটনা শুনেছি। তাদের মধ্যে শনাক্ত কেউ যদি ছাত্রলীগের সাথে জড়িত থাকে, তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে সরাসরি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিব। তবে, এ বিষয়ে অধিকাংশ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও নিরবতা পালন করছে। 

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভুইঁয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। 

প্রতিনিধি/এইচই

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর