নতুন বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি উৎসবের আমেজ নিয়ে আসে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে বইয়ের পাতায় বেরিয়ে আসে নানা অসঙ্গতি। চলতি বছরেও পাঠ্যপুস্তকে এমন ভুল পাওয়া গেছে। এমনকি এই ভুল চলে গেছে ইতিহাস বিকৃতির পর্যায়ে।
এ বছরের নবম ও দশম শ্রেণির ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ বইয়ের ১৮১ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে- ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশজুড়ে পাকিস্তানি বাহিনী হত্যাযজ্ঞ চালায়। কিন্তু সঠিক তথ্য হলো- ২৫ মার্চের কালরাত থেকেই শুরু হয় হত্যাযজ্ঞ।
বিজ্ঞাপন
একই বইয়ের ২০০ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মাদ সায়েমের নিকট প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেন। যেখানে প্রকৃতপক্ষে ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির পিতাকে শপথ পড়ান তখনকার নতুন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
এই শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের ১৬ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে- ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ ক্যাম্প। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি হবে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স। এছাড়া ১১ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ১৬৭ আসন পেয়ে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু অর্ধেকের বেশি আসন হলে তাকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বলা হয়।
এমন সব তথ্যগত ভুলকে ইতিহাস বিকৃতির সঙ্গে তুলনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এসব ভুল শিক্ষার্থীদের মাঝে নানা অসংগতির জন্ম দেবে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইতিহাসবিদ ও অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ঢাকা মেইলকে বলেন, এই ভুল কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এর আগেও উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১৭, ২০২০ ও ২০২১ সালেও পাঠ্যপুস্তকে বেশকিছু সংশোধনী দিয়েছিল এনসিটিবি। তবে এরপরও রয়ে গেছে ভুল।
বিজ্ঞাপন
সার্বিক বিষয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম বলেন, পাঠ্যপুস্তক বোর্ড বলছে- বড় কোনো ভুল এখনো চোখে পড়েনি। তবে ভুলের মাত্রা বেশি হলে প্রয়োজনে সংশোধনী দেওয়া হবে।
পিএস/আইএইচ




