‘ইডেনে বহিষ্কার আর কমিটি বিলুপ্ত করে ছাত্রলীগ দায় এড়াতে পারে না’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:৫৪ পিএম
‘ইডেনে বহিষ্কার আর কমিটি বিলুপ্ত করে ছাত্রলীগ দায় এড়াতে পারে না’

সরকারি ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগ নেত্রীদের দ্বারা ছাত্রীদের যৌন হেনস্থা, হুমকি, সিট বাণিজ্য ও নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং নির্যাতিতদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন।

এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তৃতা দেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আখতার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আকরাম হুসাইন সিএফ, ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাকা কলেজ শাখার নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্য ছাত্র নেতারা।

আখতার হোসেন বলেন, ‘ইডেনের বোনদের ওপর বছরের পর বছর ধরে চলা নির্যাতন নিপীড়নের বিরুদ্ধে তারা যে প্রতিবাদ করেছে, সেই প্রেক্ষাপটে আজ রাজু ভাস্কর্যে আমাদের অবস্থান। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তাদের দাসে পরিণত করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটা হলের ছাত্রছাত্রীদের রাজনৈতিক দাস বানানো হয়েছে। ইডেন কলেজে আমরা আরও ভয়ানক চিত্র দেখতে পেলাম। যেসব ছাত্রী হলে উঠেছে তাদের নানাভাবে যৌন হয়রানি এবং নির্যাতন করা হয়েছে। গতকাল ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে ইডেনের ১৬ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুধু কর্মী বহিষ্কার এবং কমিটি বিলুপ্ত করে ছাত্রলীগের দায়মুক্তি এড়ানোর ফন্দি করলে চলবে না। এই ঘটনায় যারা জড়িত আছে প্রত্যেককেই আইনের আওয়তায় এনে শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।’

যেসব মেয়ে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে তাদের প্রতি কোনো নেগেটিভ ধারণা না রাখার আহ্বান জানান আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘ইডেনের বোনদের এসব করতে বাধ্য করা হয়েছে৷ তাই তাদের কোনো ছবি দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যাতে হ্যারাসমেন্টের শিকার না হতে হয় দেশবাসীর প্রতি সে আবেদন রইল।’

du2

ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী নুসরাত কেয়া বলেন, ‘আমি পলিটিক্যালভাবে টাকা দিয়ে হলে উঠে দুই দিন থাকি। কিন্তু ওখানে নির্যাতনের এমন ভয়াবহ অবস্থা আমি দুই দিনের বেশি আর টিকতে পারিনি।’ এসময় তিনি বিভিন্ন নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরে বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীরা যারা পলিটিক্যালভাবে সিটে ওঠে তাদের বিভিন্ন প্রোগ্রামে যেতে হয়। যদি তারা প্রোগ্রামে যেতে না পারে তাহলে তাদের অনেকে মিলে চড়, ধাপ্পড়, চুল টেনে নির্যাতন করা হয়। তারা হাতের কাছে যেটা পায় সেটা দিয়েই শিক্ষার্থীদের আঘাত করে৷ সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা শিক্ষার্থীদের গলায় পাড়া দিয়ে তাদের নির্যাতন করে। এছাড়া ইডেন কলেজের মেয়েরা মেয়েদের বটি দিয়ে কোপায়।’

এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘তারা শিক্ষার্থী, ক্যান্টিনের মামাদের থেকে চাঁদাবাজ করে। মেয়েদের হলে ওঠাতে ৮-১০ হাজার টাকা নেয়, আবার প্রতিমাসে দুই হাজার টাকা নেয়। ক্যান্টিনের মামাদের লাভের একটা অংশ তাদের দিতে হয়। ইডেন কলেজের সামনে দোকানগুলো থেকে চাঁদাবাজি করে। তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন নেতাদের বাসায় পাঠায়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এতটাই ভুক্তভোগী যে, তাদের কথা বলার মতো সুযোগ থাকে না। তারা যেখানে যায় নিজেদের সম্মান নিজেরা ধরে রাখতে পারে না৷ তারা গ্রাম থেকে আসে, পড়াশোনা করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। কিন্তু তারা সেখানে নিজের সম্মানটাই হারিয়ে ফেলে ‘

এরপর বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ করে তারা রাজু ভাস্কর্য থেকে ইডেন কলেজ  পর্যন্ত একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন।

প্রতিনিধি/জেবি