ইডেনে সংঘর্ষ: আমরণ অনশনে যাচ্ছেন বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৪৭ এএম
ইডেনে সংঘর্ষ: আমরণ অনশনে যাচ্ছেন বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেত্রীরা

রাজধানীর ইডেন কলেজে মারামারির ঘটনায় বহিষ্কৃত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমরণ অনশন করার ঘোষণা দিয়েছেন। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না করলে তারা এই কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানিয়েছেন।

সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার কিছু আগে কলেজ ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন শুরু করেন তারা। এ সময় বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলন শেষে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা হন তারা।

এর আগে আমরণ অনশনে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন কলেজ ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত ১ নম্বর সহসভাপতি সোনালি আক্তার। তিনি বলেছিলেন, সোমবার দুপুর থেকে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে অনশন শুরু হবে।

তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের সহকর্মী জান্নাতুল ফেরদৌস আপুর ওপর হওয়া হামলার ঘটনায় এতসব ঘটনা। অথচ সেই আপুর ওপর হওয়া হামলার কোনো বিচার না করে আমরা যারা এটির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি, তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।’

সিট বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির অভিযোগ করে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ায় গত শনিবার রাতে সহসভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসকে আটকে রেখে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ ওঠে ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় সেই রাতে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের অবস্থানে কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ঘটনা তদন্তে গতকাল সকালে ছাত্রলীগ একটি কমিটি করেছে। এছাড়া জান্নাতুল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গতরাতে কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। একইসঙ্গে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ১৬ জনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। তারা হলেন ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি সোনালি আক্তার, সুস্মিতা বাড়ৈ, জেবুন্নাহার শিলা, কল্পনা বেগম, জান্নাতুল ফেরদৌস, আফরোজা রশ্মি, মারজানা উর্মি, সানজিদা পারভীন চৌধুরী, এস এম মিলি, সাদিয়া জাহান সাথী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা খানম বিন্তি ও সাংগঠনিক সম্পাদক সামিয়া আক্তার বৈশাখি এবং কর্মী রাফিয়া নীলা, নোশিন শার্মিলী, জান্নাতুল লিমা, সূচনা আক্তার।

এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আজ সংবাদ সম্মেলন ডাকে বহিষ্কৃতরা। সেখানে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। না হলে আমরণ অনশনে যাওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

এমআর