পিটুনি খেয়ে হাসপাতালে ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি, লাপাত্তা সেক্রেটারি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:৫৭ পিএম
পিটুনি খেয়ে হাসপাতালে ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি, লাপাত্তা সেক্রেটারি

দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তপ্ত রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ। শনিবার রাতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারির রেশ না কাটতেই নিজ সংগঠনের নেতাকর্মীদের হাতে মার খেলেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলের ওই হামলায় তাকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার খোঁজ মেলেনি এখনও। ধারণা করা হচ্ছে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে তিনি নিরাপদ কোথাও অবস্থান করছেন।

শনিবার রাতে মারধরের ঘটনা নিয়ে রোববার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন চলাকালে দুই গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সভাপতিসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। কলেজ অডিটোরিয়ামের সামনেই এই ঘটনা ঘটে।

এদিকে, বিকেলের এই ঘটনায় সন্ধ্যার পর থেকে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে ইডেনে। দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে ডাকা হয়েছে পুলিশ। কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে অন্য গ্রুপের কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুম্মিতা বাড়ৈও আহত হয়েছেন। তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে ক্যাম্পাস থেকে বের না করা পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে একটি পক্ষ। আর শনিবারের ঘটনার ভুক্তভোগীদের মধ্য থেকে রিভা-রাজিয়াকে ক্যাম্পাস থেকে বহিষ্কারে দাবি জানিয়ে অবস্থান করছেন আরেকটি পক্ষ।

আরও পড়ুন: ইডেন ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

এর আগে শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে মুখোমুখি অবস্থান নেয় কলেজ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ। কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসকে নির্যাতনের অভিযোগে সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা, সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা ও তাদের অনুসারী সমর্থকদের মধ্যে এই কোন্দল তৈরি হয়। এরপর থেকে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর রিভা এবং রাজিয়ার বিভিন্ন অনিয়ম, চাঁদাবাজি, সিট বাণিজ্য ও হল দখল নিয়ে গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন জান্নাতুল ফেরদৌস। এর দুদিন পর গতকাল শনিবার রাত ১১টার দিকে হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। ওই সময় সময় তাকে হেনস্তা করারও অভিযোগ ওঠে।

ঢাবি প্রতিনিধি/বিইউ/আইএইচ