এক কমিটিতে যুগ পার, বায়োডাটায় আটকে হাবিপ্রবির ছাত্রলীগের কমিটি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
হাবিপ্রবি
প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৮:২৩ পিএম
এক কমিটিতে যুগ পার, বায়োডাটায় আটকে হাবিপ্রবির ছাত্রলীগের কমিটি

প্রায় একযুগ পার হলেও নতুন কমিটি পায়নি দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগ। দীর্ঘ এই সময় ধরে কমিটি না থাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে চেইন অব কমান্ডও ভেঙে পড়েছে। প্রায়ই বিষয়টি নিয়ে সিনিয়র-জুনিয়রের ফাটলও দেখা যায়। এতে সবমিলিয়ে যে কোনো মুহূর্তে ক্যাম্পাসে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরির শঙ্কা বেড়েই চলেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তৎকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন (২০০৬-২০১১) ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগ কমিটির অনুমোদন দেয়। ওই সময় ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েন্স অনুষদের শিক্ষার্থী ইফতেখারুল ইসলাম রিয়েলকে সভাপতি এবং কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী অরুণ কান্তি রায় সিটনকে সাধারণ সম্পাদক করে ছয় সদস্যের একটি কমিটি দেওয়া হয়।

সেই কমিটি ঘোষণার নয় থেকে ১০ মাস পর মোট ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হলে কেন্দ্রীয় নেতারা এর অনুমোদন দেন। তবে এক বছরের সেই কমিটি এখন অবধি অতিক্রম করেছে দীর্ঘ নয় বছর। এরমধ্যে ২০১৬ সালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের কাছে নতুন কমিটির জন্য পদ প্রত্যাশী নেতারা বায়োডাটাও জমা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে নতুন কমিটির জন্য জোর লবিং চালিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন তারা। পরে হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেন।

HSTUজানা গেছে, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত জমা নেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির গণশিক্ষা সম্পাদক আব্দুল্লাহ হীল বারী ও উপ-ক্রীড়া সম্পাদক মেহেদী হাসান। সে সময় হাবিপ্রবি ক্যাম্পাসেই জীবনবৃত্তান্ত নেওয়া হলে মোট ২৮৯ জন পদ প্রত্যাশী জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন। এরমধ্যে ১০ জন নারী প্রার্থীও ছিলেন।

এদিকে, গত ১৪ মে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের বক্তব্যে আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন নেতাকর্মীরা। ওই ভিডিও সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে জয় বলেন, ‘হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও কিছু ইউনিটে ছাত্রলীগ কমিটি করার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।’

কেন্দ্রীয় নেতার এমন বক্তব্যে হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ উচ্ছ্বসিত হলেও এখনো কমিটি না হওয়ায় সেই উচ্ছ্বাস এখন হতাশায় পরিণত হয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে কেন্দ্রে ধরনা দিয়েও লাভ হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের পদ প্রত্যাশীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের মধ্যে নানা গ্রুপিং তৈরি হচ্ছে। কেউ কেউ নানা অপরাধে জড়াচ্ছেন। এতে সংগঠনের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে। আবার সামনে জাতীয় নির্বাচন। নেতৃত্ব না থাকায় ছাত্রলীগের চেইন অব কমান্ডও ভেঙে গেছে। এর ফলে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। আবার বয়স শেষ হতে যাওয়ায় কেউ কেউ চাকরির পড়াশোনাও শুরু করেছেন। সবকিছু থেকে নিজেদের প্রায় গুঁটিয়ে নিচ্ছেন অনেকেই।

পদ প্রত্যাশীরা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করার পরও সাংগঠনিক পরিচয় না নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সমাপ্তি ঘটছে। এদিকে চাকরির বয়স শেষ হওয়াতেও হতাশা গ্রাস করে বসেছে আমাদের।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির গণশিক্ষা সম্পাদক আব্দুল্লাহ হীল বারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি আমার ব্যক্তিগত জায়গা থেকেও আমাদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলেছি। গতকালও (শুক্রবার) এ বিষয়ে কথা হয়েছে উনাদের সঙ্গে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়া হবে বলে তারা জানিয়েছেন।

এমন আশ্বাস অনেকদিন থেকেই দিয়ে আসছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, তবে কমিটি হচ্ছে না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, জয় ভাই এবং লেখক ভাই নিজেদের মেয়াদেই কমিটি দিয়ে দেবে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করতে কিছুটা সময় লাগছে হয়তো। তবে সমন্বয়ের সুরাহা অনেকটাই হয়ে গেছে বলে শুনেছি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

/আইএইচ