প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চায় চাকরির বয়স ৩৫ প্রত্যাশীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২২, ১০:৩৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চায় চাকরির বয়স ৩৫ প্রত্যাশীরা

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চায় চাকরিপ্রত্যাশী যুব প্রজন্ম। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে স্মারক জমা দেন তারা। 

সোমবার (২৩ আগস্ট) যুব প্রজন্মের অন্যতম সমন্বয়ক  সাজিদ সেতু বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি মিডিয়াতে বলেছেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারের সকল অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আমরা শ্রদ্ধা রেখেই বলতে চাই যুব প্রজন্মকে দেওয়া চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বৃদ্ধির ওয়াদা উপেক্ষা করে কিভাবে সকল অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হয়? সাড়ে ৫ লক্ষ চাকরিপ্রত্যাশী তীর্থের কাকের মতো চেয়ে আছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বয়সসীমা ৩৫ বছরে উন্নীত করবে। ৪ বছর পার হয়ে আরেকটি জাতীয় নির্বাচন আসন্ন।

তিনি বলেন, গতকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা প্রদান করেছেন করেছি। এর আগে একই দাবিতে মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলনসহ আওয়ামী লীগ ও সরকারের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।

স্মারকলিপি প্রদাকালে উপস্থিত ছিলেন, চাকরিপ্রত্যাশী যুব প্রজন্মের সংগঠক মো. তানভীর হোসেন, রেজওয়ানা ইসলাম, সঞ্জয় সরকার, জোবেয়েদ মোল্লা।

স্মারক সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অঙ্গীকারসমূহের মধ্যে একটি ওয়াদা ছিলো চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বৃদ্ধি। করোনা পরিস্থিতির ফলে তা বিলম্বিত হলেও ইশতেহারের সময় থেকে ৪ বছর পেরিয়ে আরেকটি জাতীয় নির্বাচন আসন্ন। তাই এটির দ্রুত বাস্তবায়ন চায় সংশ্লিষ্টরা। চাকরীপ্রত্যাশী উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৫ লক্ষাধিক। নিত্তনৈমিত্তিক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে সারা বাংলাদেশজুড়ে। জাতীয় সংসদে এখন অবধি ৭১ বার বয়সসীমা বৃদ্ধির দাবিটি উত্থাপিত হয়েছে।

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ২৭ থেকে ৩০ বছরে উন্নীত হয় এখন থেকে ৩১ বছর আগে ১৯৯১ সালে, সেটাও অন্য সরকারের আমলে। তখন গড় আয়ু ছিলো ৫৭ বছর আর এখন ৭৩। বিশ্বের ১৬২টি দেশে আমাদের চেয়ে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা অধিক।

বাংলাদেশের জাতীয় যুবনীতিতে যুবকের সংজ্ঞায় ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়স বলা হচ্ছে আবার এখানে ৩০ বছরে আটকে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ। অথচ জনপ্রশাসন সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটি লিখিতভাবে বয়সসীমা ৩৫ অনুমোদন করার জন্য সুপারিশ করেছেন।

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে কোন দেশে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা কত এই উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় শুধু বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে বয়স ৩০ বছর রয়েছে। এদিকে দেশে অবসরের বয়সসীমাও একবার ৫৭ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫৯ (মহান মুক্তিযোদ্ধাদের ৬০) হয়েছে।

বয়সসীমা ৩৫ এ উন্নীতকরণের গণদাবিকে অগ্রাহ্য বা উপেক্ষা করা আর কিছু না হোক সারা বাংলাদেশের যুব প্রজন্মের কাছে একটা অশুভ বার্তাই পৌঁছে দিবে। ২০১৮ সালের ইশতেহারে স্পষ্ট উল্লেখিত থাকার পরও আমরা এই প্রজন্ম এখন অবধি এই ইস্যুতে চরমভাবে উপেক্ষিত। বর্তমান সময়ে দেশের যুবক তরুণ শ্রেনীদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম বয়সসীমা ৩৫ এর এর দাবিতে রাজপথে কর্মসূচী দিচ্ছে, সামনে গতিশীল আন্দোলনের ঘোষণা জানিয়েছে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

এসএএস / একেবি