মধ্যরাতে শিক্ষার্থীকে পুলিশে দিলেন ঢাবির হল প্রাধ্যক্ষ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
 ঢাবি
প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২২, ০৩:৪৩ পিএম
মধ্যরাতে শিক্ষার্থীকে পুলিশে দিলেন ঢাবির হল প্রাধ্যক্ষ
ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মেফতাহুল মারুফের ডিপার্টমেন্টের মেসেঞ্জার গ্রুপের চ্যাটকে 'রাষ্ট্রবিরোধী, সরকারবিরোধী ও জঙ্গি কার্যকলাপ’ আখ্যা দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) রাত ১২টায় শাহবাগ থানায় তুলে দেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন। পরে সাময়িক তদন্তের পরে ওই শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দেয় শাহবাগ থানা পুলিশ।

জানা যায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১৪তম ব্যাচের অফিসিয়াল নোটিশ গ্রুপে (মেসেঞ্জার) তার একটি মন্তব্য লিখে মেসেজ দেন। মারুফ সেখানে লেখেন, ‘সিরিজ বোমা হামলা চালাইছে (চালিয়েছে) জামায়াতুল মুজাহিদিন নামে একটা জঙ্গি সংগঠন, বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বে। সেই সময় ক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামায়াত। এই ক্ষমতায় থাকার জন্য যদি দায়ী তারা হয় তাহলে ২০০৮-বর্তমানে গুলশানসহ সকল জঙ্গি হামলার জন্য দায়ী আওয়ামী লীগ।’

মারুফের সেই মেসেজের স্কিনশট নিয়ে হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন শান্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপর মোবাইল ফোন চেক করে হল প্রভোস্টের হাতে তুলে দেন তিনি। আর এই মেসেজের ভিত্তিতেই প্রক্টরিয়াল টিমের মাধ্যমে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয় মারুফকে।

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে শাহবাগ থানার ওসি মওদুত হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, তার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা তার এলাকায় খোঁজ নিয়েছি। তার পরিবারের বড় দুই রাজনৈতিক দলের সাথেই সংশ্লিষ্টতা আছে৷ তবে ব্যক্তিগতভাবে তার কোনো দলের সাথে সংশ্লিষ্টতা নেই। সে যে মন্তব্য করেছে এটা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত মতামত। তাই আমরা তদন্তের পরে তাকে একটি মুচলেকা দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষকদের জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, এটা হল প্রশাসনের বিষয়। এ বিষয়ে প্রাধ্যক্ষ কথা বলবেন।

এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. বিল্লাল হোসেন ঢাকা মেইলকে বলেন, আমাদের জায়গা থেকে যতটুকু তদন্ত করা সম্ভব আমরা সেটা করেছি। এরপর পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। বাকি কাজ তারা করেছে।

শিক্ষার্থীকে আনতে গিয়ে ছাত্রলীগের হামলায় আহত ২

এদিকে মেফতাহুল মারুফকে থানা থেকে নিয়ে আসার সময় ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন স্টুডেন্ট এগেইনস্ট টর্চারের (স্যাট) প্রতিষ্ঠাতা সালেহ উদ্দিন সিফাত ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা আহনাফ সাইদ খান।

du2

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ঢাকা মেইলকে জানান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. তাসনিম আরেফা সিদ্দিকীর মধ্যস্থতায় থানায় কথা বলতে আসেন সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম। পরে আইনুল ইসলামের জিম্মায় মেফতাহুল মারুফকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয় শাহবাগ থানা পুলিশ। এসময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনেক শিক্ষার্থী, স্যাটের নেতৃবৃন্দ, ছাত্র অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। মারুফকে ছেড়ে দিলে তাকে সাথে নিয়ে স্যাট 'নির্যাতনবিরোধী' মিছিল করতে চাইলে আইনুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে আর 'বাড়াবাড়ি' করতে নিষেধ করেন এবং স্যাটের নেতাকর্মীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। তখন স্যাটের নেতাকর্মীদের সাথে ও বিভাগের শিক্ষার্থী বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তিও হয়।

পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের বিপরীত পাশে (শাহবাগের রাস্তা) কবি জসীমউদ্দিন হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ওয়ালিউল সুমন (সুমন খলিফা) এর একদল অনুসারী ধাওয়া করলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে স্যাটের প্রতিষ্ঠাতা সালেহ উদ্দিন সিফাত ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা আহনাফ সাইদ খানকে পিটিয়ে আহত করে ধাওয়াকারীরা। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷

শাহবাগ থানার ওসি (অপারেশন) গোলাম মোস্তফা জানান, বিকেলে জন্মাষ্টমীর একটি প্রোগ্রামে শাহবাগ থানার ওসি মওদুত হাওলাদারের নেতৃত্বে থানার টিম কাজ করছে। হামলার কোনো ঘটনা ঘটছে কি না জানি না। তবে ওই শিক্ষার্থীকে বিভাগের এক শিক্ষকের জিম্মায় মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

হামলার বিষয়ে কবি জসীমউদ্দিন হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ওয়ালিউল সুমন ঢাকা মেইলকে বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে ছাড়িয়ে আনতে সব হলের অনেক ডিপার্টমেন্টের বন্ধুবান্ধব ছিল। ওদের সাথে ছাত্র অধিকার পরিষদের এদের ঝামেলা হয়েছে হয়তো। তবে ছাত্রলীগ থেকে কেউ হামলা করেনি।

প্রতিনিধি/জেবি