নিজেদের নেওয়া সিদ্ধান্তই মানছেন না কুবি প্রশাসন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
কুবি
প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২২, ০২:৫১ পিএম
নিজেদের নেওয়া সিদ্ধান্তই মানছেন না কুবি প্রশাসন

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি নির্দেশনায় ৮টি পদক্ষেপ নিয়েছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, একাডেমিক ভবন এবং হলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বন্ধ রাখা এবং লাইট-ফ্যান ব্যবহারে সীমিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সেই নির্দেশনা মানেন না প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এদিকে নিয়মিতই এসি চালানো হয় খোদ উপাচার্যের দফতরেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সরকারি নির্দেশনা মানতে বিশ্ববিদ্যালয় গত ২৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭২তম বিশেষ একাডেমিক কাউন্সিল সভায় ৮টি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশনায়, গত পহেলা আগস্ট থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সপ্তাহে ৪ দিন সশরীরে ও একদিন অনলাইনে ক্লাসের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে নিজস্ব এবং ভাড়াকৃত যানবাহনসমূহের ব্যবহার সীমিতকরণ; প্রশাসনিক, একাডেমিক ভবন এবং হলসমূহের কক্ষে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বন্ধ ও লাইট-ফ্যান সীমিত ব্যবহার, আবাসিক হলসমূহে হিটার ব্যবহার বন্ধ, আপ্যায়ন খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ব্যয়, বিভিন্ন কমিটির সভাসমূহ অনলাইনে আয়োজন করতে বলা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, যানবাহন বন্ধ করে আমাদের ভোগান্তি বৃদ্ধি করেছে প্রশাসন। প্রতিটি সপ্তাহে শহরে আসা-যাওয়া বাবদ ২ শত থেকে ৩ শত টাকা অতিরিক্ত ব্যয় বেড়েছে। অথচ এই ব্যয়টি আগে ছিল না। আর আমাদের দেওয়া নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রয়োগ করলেও নিজেদের বেলায় সেসব নির্দেশনা মানছেন না তারা।

প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন দফতর ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও জনতা ব্যাংকে চলছে প্রায় ১৫টি এসি। এছাড়াও উপাচায দফতর, উপ-উপাচায দফতর, অর্থ ও হিসাব দফতর, আইকিউএসির দফতরসহ প্রায় সবকটি দফতরেই চালানো হয় এসি। এছাড়াও একাধিক দফতরে কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকলেও অনবরত চলে লাইট ও ফ্যান। অফিস না করলেও বন্ধ থাকে না এগুলো।

এছাড়াও বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধানের কক্ষ ও ক্লাস রুমগুলোতে মানা হয় না নির্দেশনাসমূহ। এদিকে আবাসিক হল সমূহের প্রাধ্যক্ষদের রুমে নতুন করে লাগানো হয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে লাগানো হয়েছে মোট ৩৬টি এসি।

এসি চালানোর বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, গরমের তীব্রতা বেশি। এসি চালু না করলে হাসফাঁস লাগে। ফলে অল্প সময়ের জন্য আমরা চালাতে বাধ্য হচ্ছি।

একাধিক এসি চালানোর বিষয়ে জানতে চাইলে জনতা ব্যাংকের ম্যানেজার আবদুল গফফার বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মে নয়, আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মে চলি। গ্রাহকের সুবিধার কথা চিন্তা করে আধা ঘণ্টা অন রাখলে এসি আবার ঘণ্টা দেড়েক অফ রাখি। তবে আমরা স্বাভাবিক ২৬ মাত্রার মধ্যে এসি চালাই।

এসি বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়ার পরও কেন বন্ধ করা যাচ্ছে না- জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ২/১ জায়গায় এসি চলে। এসি চলে মানে দুই ঘণ্টা, একঘণ্টা চলে। ঘণ্টা দেড়েকের বেশি কোথাও চলে না। আমার রুমে এখন এসি চলতেছে না! একটা চলতেছে আবার একটু পর দেখবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতবড় রুমে একটু ইয়ে (গরম) থাকে। একটা মন্ত্রীর রুমে গেলেও তুমি দেখবা এক/আধাঘন্টা এসি চলে।

/এএস