জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ট্রান্সপোর্ট এলাকা থেকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন জাবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আটক সাইফুল ইসলাম পাবিপ্রবির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বর্তমানে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পড়াশোনা করছেন।
গত শুক্রবার গণঅধিকার পরিষদের পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত র্যালি ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত। ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নারী অধিকার পরিষদের নেত্রী শারমিন আক্তার সাথীর একটি ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করে তাকে ও গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে সাইফুলের বিরুদ্ধে।
শারমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। তিনি বলেন, ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করে সাইফুল কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। বিষয়টি জানতে পেরে সহপাঠীদের নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি আইডি হ্যাক হওয়ার কথা বলেন। পরে মুঠোফোন পরীক্ষা করে বিভিন্ন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তথ্য ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সাদ্দামের সঙ্গে ছবি পাওয়া যায়।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জানান, সাইফুলের মুঠোফোন যাচাই করে জাবি ছাত্রলীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান সোহেল, সোহেল রানা ও পাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। ক্যাম্পাসে পোস্টারিংয়েও তার সম্পৃক্ততার সন্দেহ রয়েছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে তাকে আশুলিয়া থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, সাইফুলের মুঠোফোনে ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ফেসবুক আইডিতে জাকসুর সাবেক ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুসহ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক আবদুস সাত্তার জয় বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্যের সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। মুঠোফোন জব্দ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, আটক ব্যক্তিকে থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিনিধি/এলএ




