জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দুই নারী অতিথিসহ এক শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধভাবে মারধর এবং জোর করে ক্ষমা চাওয়ানোর ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য সামিন ইয়াসার লাবিবের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম শিহাব বিশ্বাস। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব রিমোট সেন্সিং অ্যান্ড জিআইএসের ষষ্ঠ ব্যাচের নিয়মিত শিক্ষার্থী।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে দুই নারী অতিথিকে নিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সংলগ্ন সুইজারল্যান্ড এলাকায় একটি মাচায় ছবি তুলতে যান শিহাব। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সামিন ইয়াসার লাবিবসহ আরেকজন এসে তার পরিচয় জানতে চান। এ সময় তিনি নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র দেখান। পরে তাকে মাচা থেকে চলে যেতে বলা হয়।
শিহাবের দাবি, তিনি ছবি তুলে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে চলে যাবেন বলে জানালেও লাবিব জায়গাটি তার নিজের বলে দাবি করেন।
জবাবে শিহাব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি ব্যক্তিগত হতে পারে না। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে লাবিবের সাবেক হল সংসদের পদ ও জাকসু নির্বাচন নিয়ে কথা হলে তিনি ক্ষুব্ধ হন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেখান থেকে নেমে সামনে এগোতে থাকলে ১৫ থেকে ২০ জন তাকে ঘিরে ধরে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে টেনে নিয়ে আরও মারধর করা হয়। এতে তার নাক, মুখ, কান ও গাল দিয়ে রক্তপাত হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হামলাকারীরা তাকে ছেড়ে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শিহাব আরও অভিযোগ করেন, মারধরের পর তাকে দিয়ে একটি ভিডিও ধারণ করা হয়। সেখানে মাচায় যাওয়াকে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। ওই সময় অসুস্থ থাকায় হামলাকারীদের কথামতো বক্তব্য দিতে বাধ্য হন বলে জানান তিনি। এ সময় তার সঙ্গে থাকা দুই নারী অতিথির একজনের চশমাও ভেঙে যায় বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
অভিযুক্ত সামিন ইয়াসার লাবিব জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সংসদের নির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে সামিন ইয়াসার লাবিব বলেন, আমিও এ বিষয়ে জানতে পেরেছি যে, একজন শিক্ষার্থী আমার বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগ দিয়েছেন। সেখানে মারধরের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়েছে, মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মো. আব্দুল হালিম বলেন, অভিযোগপত্র পেয়েছি। অভিযোগপত্র পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একটি তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। আমাদের দুজন সহকারী প্রক্টরকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিনিধি/এলএ




