পার্বত্য চট্টগ্রামকে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে বিশেষ আইনের মাধ্যমে পরিচালনার প্রস্তাবকে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের।
তিনি বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতোই দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই সমগ্র দেশে যে আইন কার্যকর, এ অঞ্চলও একই আইনে পরিচালিত হতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।
পোস্টে এবি জুবায়ের বলেন, ডাকসুর সিল ব্যবহার করে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কমিটির কাছে পার্বত্য চট্টগ্রামকে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন ডাকসুর সদস্য হেমা চাকমা। তবে এই প্রস্তাব ডাকসুর সর্বসম্মত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব নয়। এটি হেমা চাকমার ব্যক্তিগত প্রস্তাব হতে পারে। এর দায়ভারও তার, ডাকসুর নয়।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের নিজস্ব একটি অঞ্চল। দেশের অন্যান্য এলাকার মতো এ অঞ্চলও একই আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হতে হবে। আলাদা আইনে পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই।
পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাত থেকে দেশ ও নাগরিকদের সুরক্ষার স্বার্থে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবস্থান আরও জোরালো করার পক্ষেও মত দেন ডাকসুর এই নেতা। তিনি বলেন, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।
হেমা চাকমার প্রস্তাবনায় পাহাড়ের জনগোষ্ঠীগুলোকে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিরও বিরোধিতা করেন এবি জুবায়ের। তার ভাষ্য, পাহাড়ের জনগোষ্ঠীগুলো ভিন্ন জাতিসত্তার হতে পারে, তবে তারা আদিবাসী নয়, বাংলাদেশি। পাহাড় ও সমতলের মানুষ মিলেই বাংলাদেশ। এখানে কোনো ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়।
পাহাড় ও সমতলের মানুষের সম্পত্তি কেনার অধিকারের বিষয়ে তিনি বলেন, পাহাড়ের একজন বাসিন্দা যেমন সমতলে জমি কিনে বাড়ি করতে পারেন, তেমনি সমতলের মানুষেরও পাহাড়ে জমি কিনে বাড়ি করার সুযোগ থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সবাই বাংলাদেশি। পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়।
এমআর/এআরএম




