শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ পুনরুদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়কে মাঠ ফিরিয়ে দিতে ১ দফা আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৪ নভেম্বর) সড়ক অবরোধ ও গণপূর্তের প্রতিকী কুশপুত্তলিকা দাহ শেষে এমন ঘোষণা দেন তারা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন গবেষণা মাঠটি দখলের পাঁয়তারা করা হচ্ছে।
এদিকে, বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা স্ট্যান্ডের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে বের হয়ে চীন মৈত্রী সিগন্যালে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এরপর চীন মৈত্রী সম্মেলনের সামনের সড়ক অবরোধ করে কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা।
সড়ক অবরোধের পাশাপাশি শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত গণপূর্ত কমপ্লেক্সের সামনে কুশপুত্তলিকা দাহ করে গণপূর্তকে অকার্যকর ঘোষণা দিয়ে মাঠ ফিরিয়ে দিতে এক দফা আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিকালচার বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদ আহমেদ আশিক বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠ। এ মাঠ আমাদের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। এ মাঠকে একটি পক্ষ চায় সরকারকে ভুল বুঝিয়ে দখল করে নিবে। সর্বশেষ তারা মাঠের মধ্যে নতুন করে সচিবালয় নির্মাণ করার ঘোষণা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতে আমরা আমাদের গবেষণার মাঠকে দখল করতে দিবো না। আজকে আমরা সড়ক অবরোধ করেছি, গণপূর্ত কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থান করে কুশপুত্তলিকা দাহ করেছি। এরপরও যদি সরকার আমাদের মাঠ আমাদের ফিরিয়ে না দেয়, তাহলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবো। মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়কে ফিরিয়ে দিতে হবে এটাই আমাদের এক দফা।
উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি দাবি করে তা হস্তান্তরের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন মাঠে সচিবালয় নির্মাণের উদ্দেশ্যে চলমান মাটি পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও গাড়ি জব্দ করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন তারা। পরদিন মাঠে মেলা বন্ধের আলটিমেটাম দেওয়ার পর সেখানে থাকা বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
২৯ অক্টোবর সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিনই জাতীয় যুবমেলাসহ সব ধরনের মেলা স্থগিতের ঘোষণা দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তবে মাঠের স্থাপনা অপসারণ না করা এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে গত ২ নভেম্বর চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে মাঠটি চাষ করে নিজেদের দখলে নেন আন্দোলনকারীরা।
একেএস/এআরএম




