জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের অপ্রাসঙ্গিক আন্দোলন না করার পরামর্শ দেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন জকসুর এজিএস মাসুদ রানা।
তিনি বলেছেন, এমন পরামর্শ দেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, আবাসন সংকট ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় নেওয়া অবশ্যই উচিত ছিল।
সোমবার (২ নভেম্বর) নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৃত পক্ষে কী পাচ্ছে?
মাসুদ রানা লেখেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর এবং অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন উপাচার্যের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একাধিক মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জবির সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও নিয়মিত এসব অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণে এখন পর্যন্ত কোনো মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান বরাদ্দ, উদ্যোগ কিংবা বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে মাসুদ রানা বলেন, মন্ত্রী ঠিক কোন বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে তার ধারণা, জবির যৌক্তিক দাবিতে শিক্ষার্থীদের সচিবালয় ও যমুনামুখী আন্দোলনের প্রসঙ্গেই হয়তো তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।
মন্ত্রীর প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত শেষ করা, আবাসিক হল নির্মাণ এবং শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পর এমন পরামর্শ দেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা তা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানোর প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন করেন, একের পর এক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকে আমন্ত্রণ জানিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাভ কী? বিশ্ববিদ্যালয় আসলে কী পাচ্ছে? এসব আমন্ত্রণের পেছনে উপাচার্যের ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে মাসুদ রানা আশা প্রকাশ করেন, এসব আমন্ত্রণ যেন শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করার কাজে আসে।
এর আগে সোমবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়াগুলো প্রাসঙ্গিক হলেও সেগুলোর নামে অপ্রাসঙ্গিক আন্দোলন করা উচিত নয়।
দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ, আবাসিক সুবিধাসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় যৌক্তিক দাবিগুলো যথাসময়ে পূরণ করা হবে।
এএইচ



