বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

রাকসুর মেয়াদ শেষ, পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, রাবি
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম

শেয়ার করুন:

রাকসুর মেয়াদ শেষ, পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর)। তবে পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট ঘোষণা বা দৃশ্যমান প্রস্তুতি নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মেয়াদ তিন মাস বাড়ানো হলেও রাকসুর মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে না। গঠনতন্ত্রে মেয়াদ বাড়ানোর বিধান না থাকায় বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর গত বছরের ১৬ অক্টোবর রাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৩টি পদের বিপরীতে নয়টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এতে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ সহসভাপতি (ভিপি) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদসহ ২০টি পদে জয়ী হয়। হল সংসদগুলোর শীর্ষ পদগুলোতেও এ প্যানেলের প্রার্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন। নির্বাচনের ১০ দিন পর, ২৬ অক্টোবর, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। সে অনুযায়ী গত সোমবার শেষ হয়েছে সংসদের মেয়াদ।

১৯৫৭ সালে ‘রাসু’ নামে যাত্রা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্র সংসদ। সামরিক শাসনের কারণে ১৯৫৮ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত এর কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরে ১৯৬২ সালে নাম পরিবর্তন করে ‘রাকসু’ করা হয়। ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত মোট ১৪টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দীর্ঘ ৩৫ বছর রাকসুর কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা

বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হলেও পরবর্তী নির্বাচনের সময়সূচি বা প্রস্তুতি সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সমাজকর্ম বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আরিফ আলভি বলেন, ‘রাকসু নির্বাচনের মেয়াদ আজ শেষ হলো। অথচ পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে কোনো আপডেট নেই। এ নিয়ে একধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। রাকসু কোনো দয়া বা দান নয়, এটা আমাদের অধিকার। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে এবং নেতৃত্বের বিকাশ ঘটায়। একজন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে অবশ্যই রাকসু চাই। অন্যথায় রাজপথে দেখা হবে। আমাদের অধিকার নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেব না।’

রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, ‘আমাদের সফলতা কেবল আমরা কী করতে পেরেছি বা কী করতে পারিনি, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাকসুকে বাস্তবে রূপ দিতে পারা এবং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, বাকি খাওয়া কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর ঊর্ধ্বে থেকে মেয়াদ শেষ করতে পারাটাই আমাদের আসল সফলতা বলে মনে করি।

‘দীর্ঘদিন পর রাকসুর যাত্রা শুরু হওয়ায় পূর্ব অভিজ্ঞতা ও অভিজ্ঞ পরামর্শদাতার অভাবে শুরুতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে আমরা যা করেছি, তা থেকে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হয়েছেন বলেই বিশ্বাস করি।’

83fd9cfb-b762-4460-9b6c-fae09b3b8558

তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তী রাকসু নির্বাচন ও নতুন সংসদের পথ সুগম করতে আমরা শুরু থেকেই কাজ করে আসছি। সর্বশেষ অধিবেশনে বর্তমান কোষাধ্যক্ষ স্যারকে গঠনতন্ত্র সংস্কার, নির্বাচনি তফসিল প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা স্যারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।’

রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘পরবর্তী রাকসু অবশ্যই আদায় করে নিতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। “পরবর্তী রাকসু কখন করতে হবে, কীভাবে করতে হবে, আমরা পারতেছি না”—এ ধরনের কোনো আলাপ করার সুযোগ নেই। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, পরবর্তী রাকসু নির্বাচন কোনো প্রকার তালবাহানা না করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আয়োজন করবে। আমাদের জায়গা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাকসু সফল না ব্যর্থ—সে বিষয়ে শিক্ষার্থীরা আলোচনা করতে পারছেন, এটিও সংসদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। কী করা প্রয়োজন এবং কী করা হয়নি, তা শিক্ষার্থীরা চিহ্নিত করতে পারছেন। তাই পরবর্তী নির্বাচন আয়োজন ও রাকসু আদায়ের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘ভিসি স্যার আমাদের জানিয়েছেন, পরবর্তী নির্বাচন তিনি দেবেন। কিন্তু কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ আমরা এখন পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছি না। এ কারণে আমাদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে—আসলেই তিনি নির্বাচন নিরপেক্ষ ও স্বতন্ত্রভাবে দেবেন, নাকি সরকারের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় থাকবেন। এটা ভাবার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

12dd8c12-4930-4e0b-bcbf-2233ad1183c6

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম থেকেই নির্বাচন দেওয়ার ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো আগ্রহ ছিল না। এ কারণে সর্বশেষ আমরা লিখিতভাবে প্রস্তাব পাস করিয়েছি, যাতে নির্বাচন দেওয়া হয়। কিন্তু এ নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনের সবার মধ্যে অনাগ্রহ দেখতে পেয়েছি। গতবার শিক্ষার্থীরা চারবার আন্দোলন করে নির্বাচন আদায় করে নিয়েছেন। এবার যাতে সেটা করতে না হয়, তা আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। এরপরও যদি কোনো তালবাহানা করা হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা রাকসু আদায় করে নেব।’

পরবর্তী রাকসু নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান বলেন, ‘রাকসু নির্বাচন নিয়ে এখনো উপাচার্যের কাছ থেকে কোনো বার্তা পাইনি। রাকসুর গঠনতন্ত্রে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট উল্লেখ নেই। নির্বাচন আসন্ন হলে এত দিনে তফসিল ঘোষণা করা হতো। আসলে ভোট করার জন্য যে প্রস্তুতি দরকার, তা এই মুহূর্তে নেই।’

নির্বাচনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের গঠনতন্ত্রে মেয়াদ বাড়ানোর কথা নেই। সে জন্য রাকসুর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। রাকসু ৩৫ বছর পর হয়েছে, আমরাও চাই রাকসু হোক। পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন রাকসু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হবে, তখনই এর আয়োজন করা হবে।’

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর