রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

সাত দাবিতে আন্দোলনে নামছেন শিক্ষা ক্যাডাররা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০০ এএম

শেয়ার করুন:

সাত দাবিতে আন্দোলনে নামছেন শিক্ষা ক্যাডাররা
প্রতীকী ছবি

দীর্ঘদিনের পদোন্নতিজট ও বৈষম্য নিরসনসহ সাত দফা দাবিতে আন্দোলনে নামছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরে (মাউশি) অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন তারা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার প্রভাষক পরিষদের ব্যানারে এ আন্দোলন অনুষ্ঠিত হবে।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে পদোন্নতির সরকারি আদেশ (জিও) দ্রুত জারি, ২৪তম থেকে ৩৮তম বিসিএসের যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি, দুই হাজার ৮২৩টি সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অনুমোদন এবং পদোন্নতিতে দীর্ঘসূত্রতা ও ক্যাডারভিত্তিক বৈষম্য দূর করা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিয়ে গত ১৬, ১৭ ও ২১ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এসব সভার পরও পদোন্নতির সরকারি আদেশ জারি হয়নি। এর আগে গত ২৩ জুলাই মাউশির পক্ষ থেকে দুটি স্মারকে ডিপিসির সভা আহ্বান করা হয়েছিল। ২৭ জুলাই তৎকালীন সচিবের সভাপতিত্বে সভাটি হওয়ার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তা পিছিয়ে যায়। দীর্ঘদিনেও পদোন্নতির বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় ক্ষোভ থেকে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন প্রভাষকরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি কলেজ শাখার কর্মকর্তারা পদোন্নতির আদেশ জারি না হওয়ার পেছনে শূন্য পদের স্বল্পতা এবং সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অনুমোদন না পাওয়াকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে প্রভাষক পর্যায়ে পদ রয়েছে ৯ হাজার ৭৮২টি। অন্যদিকে সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে পদের সংখ্যা চার হাজার ৪৫১টি। দুই স্তরের পদের সংখ্যায় বড় ব্যবধান থাকায় প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে যোগ্য কর্মকর্তাদের বড় একটি অংশের প্রথম পদোন্নতি আটকে রয়েছে।

মাউশির ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পাঠানো প্রস্তাব অনুযায়ী, ৩২তম, ৩৩তম, ৩৪তম, ৩৫তম, ৩৬তম ও ৩৭তম বিসিএসের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সরকারি কলেজ জাতীয়করণ বিধিমালা, ২০০০-এর আওতায় আত্তীকৃত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে মোট দুই হাজার ৮২৩ জন প্রভাষক সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির যোগ্য ছিলেন।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সংখ্যা বিদ্যমান পদের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। ফলে পর্যাপ্ত শূন্য পদ না থাকায় নতুন করে পদোন্নতি দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ সমস্যা সমাধানে দুই হাজার ৮২৩টি সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হলেও এখনো সেটির অনুমোদন মেলেনি।

পদোন্নতি নিয়ে অসন্তোষের আরেকটি বড় কারণ হিসেবে অন্যান্য ক্যাডারের সঙ্গে বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরছেন শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা।

তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিসিএস প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্যাডারে ২০২২, ২০২৩, ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে ষষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি পেয়েছেন। বিপরীতে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৬ সালে ষষ্ঠ গ্রেডে কোনো পদোন্নতি হয়নি। ২০২৫ সালে একসঙ্গে এক হাজার ৮৭০ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে সাময়িকভাবে দীর্ঘদিনের জট কমানো সম্ভব হলেও এতে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। পদোন্নতিতে অনিশ্চয়তা দূর করতে নিয়মিত, স্বচ্ছ ও নির্ধারিত সময়ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আন্দোলনকারীদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, গত ১৬, ১৭ ও ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠিত ডিপিসির সভার আলোকে যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সরকারি আদেশ অবিলম্বে জারি করা। প্রযোজ্য বিধিমালা, যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা অনুসারে ২৪তম থেকে ৩৮তম বিসিএসের পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

এ ছাড়া প্রস্তাবিত দুই হাজার ৮২৩টি সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দ্রুত নিষ্পত্তি ও অনুমোদনের মাধ্যমে পদোন্নতির বাধা দূর করা এবং বিধি ও প্রাপ্যতা অনুযায়ী যোগ্য কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধাসহ ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি নিশ্চিত করার দাবি রয়েছে।

দাবির অন্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা ক্যাডারে দীর্ঘদিনের পদোন্নতিজট ও ক্যাডারভিত্তিক বৈষম্য নিরসন করে নিয়মিত, স্বচ্ছ ও সময়বদ্ধ পদোন্নতি কাঠামো চালু করা; তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে পদোন্নতির যোগ্যতা ও প্রাপ্যতাসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে সংশ্লিষ্ট ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি করা।

পাশাপাশি পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি বৈঠক আয়োজন এবং পদোন্নতি বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

এম/জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর