মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ডিসিইউর অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষার রুটিন নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম

শেয়ার করুন:

ডিসিইউর অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষার রুটিন নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ)।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) ২০২৫ সালের অনার্স প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলবে। দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষার সূচি নির্ধারণ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪টি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তাঁদের আশঙ্কা, এভাবে পরীক্ষা চলতে থাকলে একাডেমিক কার্যক্রমে ধীরগতি, সেশনজট ও পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শহিদুল্লাহর স্বাক্ষরে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়।

ডিসিইউর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বর থেকে অনার্স প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। বিজ্ঞান অনুষদের ব্যবহারিক পরীক্ষার সময়সূচি পরে প্রকাশ করা হবে। লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে আরও সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।

নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় দীর্ঘসূত্রতা অব্যাহত থাকায় প্রশাসনের একাডেমিক পরিকল্পনা ও সেশনজট নিরসনের উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

পরীক্ষার সূচি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী নাজমুল নাহিদ বলেন, ‘সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রশাসন তিন মাস লাগিয়ে কেন প্রথম বর্ষের পরীক্ষা নেবে? তাহলে রোডম্যাপ অনুযায়ী ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা জানুয়ারিতে কীভাবে নেওয়া হবে? আমরা এমনিতেই সেশনজটে আছি। নতুন প্রশাসন আসার পর ভেবেছিলাম, এবার হয়তো সেশনজট হবে না। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থাকাকালে যেভাবে তিন মাস ধরে পরীক্ষা নেওয়া হতো, এখনো সেভাবেই চলছে। আগে ছিল অধিভুক্ত সাত কলেজ, এখন সংযুক্ত সাত কলেজ। আর কোনো পরিবর্তন তো দেখছি না।’

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আতিক বলেন, ‘৩ নভেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত তাঁদের লিখিত পরীক্ষা চলবে দুই মাস সাত দিন। এর সঙ্গে ব্যবহারিক পরীক্ষা যুক্ত হলে পুরো প্রক্রিয়ায় পাঁচ থেকে ছয় মাস লেগে যেতে পারে। পরীক্ষার মধ্যে ১৫ থেকে ৩০ দিনের বিরতি পড়ায় পড়াশোনার ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে। এতে সেশনজট, মানসিক চাপ ও আর্থিক সংকট বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই রুটিন পুনর্বিবেচনা করে স্বল্প সময়ে পরীক্ষা শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।’

শিক্ষার্থীদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা চললে পরবর্তী বর্ষের পাঠদান ও পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হতে পারে। এতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষাবর্ষ শেষ করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নও কঠিন হয়ে পড়বে।

পরীক্ষা দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ডিসিইউর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ‘ডিসেম্বর মাসে প্রায় ১৭ দিনের ছুটি থাকায় কলেজগুলো বন্ধ থাকে। এ কারণে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে বেশি সময় লাগছে। বিজ্ঞান বিভাগের যেসব বিষয়ের পরীক্ষা আগে শেষ হবে, সেগুলোর ব্যবহারিক পরীক্ষা আগেই শুরু করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে পরীক্ষা হলে ছুটি তুলনামূলক কম থাকায় কম সময়ে পরীক্ষা শেষ করা সম্ভব হবে। দ্রুত ফলাফল প্রকাশের বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে। এ নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে।’

তবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের এ ব্যাখ্যার পরও পরীক্ষার সময় কমানো এবং একাডেমিক কার্যক্রমে গতি ফেরানোর বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ চান শিক্ষার্থীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে নিয়মিত শিক্ষাবর্ষ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

এম/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর