সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই

রাবি শিক্ষার্থী দীপার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস ভিসির

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, রাবি
প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম

শেয়ার করুন:

রাবি শিক্ষার্থী দীপার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস ভিসির

মেধা, পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে সম্বল করে চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন রংপুরের বদরগঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রামের শিক্ষার্থী দীপা রানি বিথি। আর্থিক সংকটে অনাহারে দিন কাটানোসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এই শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সম্প্রতি দীপার আর্থিক সংকট ও জীবনসংগ্রামের কথা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম দীপা রানি বিথিকে ফোন করে তার খোঁজখবর নেন। এ সময় তার পড়াশোনা নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন উপাচার্য।

দীপা রানি বিথি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ভর্তি হন। তার বাবা বিমল মহন্ত পেশায় একজন ভ্যানচালক। মা নীলমতি রানী। পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বর্তমানে তার বাবা-মা দুজনই অসুস্থ এবং চলাফেরায় অক্ষম হয়ে পড়েছেন। ফলে পরিবারের কাছ থেকে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকে রাজশাহীর মির্জাপুরে একটি মেসে থেকে নানা সংকটের মধ্যদিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন দীপা। পড়াশোনার খরচ জোগাতে টিউশনি খুঁজেছেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বৃত্তির জন্য আবেদন করেছেন। সাত-আটটি বৃত্তির আবেদন করেও কোনো সহায়তা পাননি বলে জানান তিনি। এমনকি কখনো খাবার জোগাড় করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

দীপার ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় গ্রামের মানুষজন সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে সহযোগিতা করেছিলেন। তাদের সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেলেও বর্তমানে পরিবারের আর্থিক সংকট এবং নিজের পড়াশোনার ব্যয় নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে দীপা বলেন, আমার বাবা আমার জন্য মানুষের কাছে হাত পাতছেন। মা হাঁটতে পারেন না, তিনিও বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে বলছেন— আমার মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যাবে, ওর বাসা ভাড়া আছে, কারেন্ট বিল আছে, খাবার কীভাবে জোগাড় করবে? আমাকে কিছু টাকা দেন। বাবার মুখে এসব শুনে আমার খুব খারাপ লাগে।

খাবারের সংকটের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি বলছিলাম যে আমি খাইনি। শুধু আলু খেয়ে মানুষ কতদিন বাঁচে?

এমন পরিস্থিতিতে চরম আর্থিক ও মানসিক চাপে একাধিকবার আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় এসেছিল বলেও জানান দীপা। তবে প্রতিকূলতার মধ্যেও উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, যত সহযোগিতা লাগে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব করবে। শুধু ওর ক্ষেত্রেই নয়, আমরা ভেতরে ভেতরে অনেক শিক্ষার্থীকে সহযোগিতা করেছি এবং করছি। কাউকে ঢাকায় পাঠিয়ে চিকিৎসা করানো, অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা— এ ধরনের কাজ আমরা নীরবে করে যাচ্ছি।

দীপার পড়াশোনা যাতে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে উপাচার্য আরও বলেন, তার পড়াশোনা যাতে আনইন্টারাপ্টেডলি চলে, সেই ব্যবস্থা করব। পাশাপাশি তার অন্যান্য প্রয়োজন, যেমন কম্পিউটার বা এ ধরনের কোনো সহায়তা প্রয়োজন হলে, সেটিও প্রশাসন থেকে ব্যবস্থা করা হবে। তার বিভাগ ও শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে যা করা যায়, আমরা সেটাই করব।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই আশ্বাসের বিষয়ে দীপা রানি বিথি বলেন, উপাচার্য স্যার আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। পূজার ছুটি শেষে আমাকে দেখা করতে বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমার পাশে রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার এই আশ্বাস দীপার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর