রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

সব বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল নেটওয়ার্কে আনতে চায় ইউজিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম

শেয়ার করুন:

সব বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল নেটওয়ার্কে আনতে চায় ইউজিসি

আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। 

এ সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চগতির ইন্টারনেট ও ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষের সুবিধা নিশ্চিত করতে চায় সংস্থাটি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি থেকে শুরু করে সনদ সংগ্রহ পর্যন্ত সব ধরনের সেবা অনলাইনে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সে ‘উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনার ডিজিটাল রূপান্তর’ শীর্ষক এক পরামর্শক কর্মশালায় এসব পরিকল্পনার কথা জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

তিনি বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল নেটওয়ার্ক, উচ্চগতির ওয়াইফাই ও প্রযুক্তিগত সহায়তার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ চালুর পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে কিংবা পড়াশোনা শেষে সনদ সংগ্রহ করতে শিক্ষার্থীদের এখনো নানা ধরনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এসব সেবা সহজ করতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা যেন ঘরে বসেই ভর্তির আবেদন, ফি জমা এবং আবাসিক হলের আসনসংক্রান্ত তথ্য জানতে পারেন, সে ধরনের ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর সনদ সংগ্রহের জন্য বারবার বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে আবেদন বা ফি জমা দেওয়ার প্রয়োজন যেন না হয়, সে বিষয়েও কাজ করতে চায় ইউজিসি।

পাঁচ বছরের মধ্যে ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা

শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ বাড়াতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও জানান অধ্যাপক মামুন আহমেদ।

তিনি বলেন, এ জন্য একটি সমন্বিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিভাগ ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী ইন্টার্নশিপের চাহিদা জানাবে। অন্যদিকে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরগুলো জানাবে, তারা কতজন শিক্ষার্থীকে ইন্টার্নশিপের সুযোগ দিতে পারবে।

ইউজিসি দুই পক্ষের মধ্যে সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরিতে কাজ করবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যোগ্য শিক্ষকের ঘাটতি মোকাবিলায় ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন ইউজিসি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, দেশের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটারবিজ্ঞানের মতো বিষয়ে প্রয়োজনীয়সংখ্যক দক্ষ শিক্ষক নেই। এ অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের ক্লাসে অনলাইনের মাধ্যমে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

পাশাপাশি বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজ করতে সমন্বিত সফটওয়্যার ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন অধ্যাপক মামুন আহমেদ।

তিনি বলেন, ভর্তি, হিসাবরক্ষণ, শিক্ষক-কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থী ব্যবস্থাপনা এবং বৃত্তিসংক্রান্ত কার্যক্রম একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালনা করা গেলে প্রশাসনিক কাজ সহজ হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য একটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

তবে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদাভাবে একই ধরনের সফটওয়্যার তৈরির পরিবর্তে বিদ্যমান প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাগুলো সমন্বয় করে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এ বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ চেয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য শুধু সফটওয়্যার তৈরি করলেই হবে না। প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার, নেটওয়ার্ক, তথ্য সংরক্ষণব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামোরও সমন্বিত উন্নয়ন করতে হবে।

কর্মশালায় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব ও অধ্যাপক ড. আসলাম হোসেন এবং হিট প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান বক্তব্য দেন। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, গবেষক এবং ইউজিসি ও হিট প্রকল্পের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এমএইচ/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর