বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

পাঁচ বছরে ৩ হাজার শিক্ষককে পিএইচডি অর্জনে সহায়তা দেবে ইউজিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম

শেয়ার করুন:

পাঁচ বছরে ৩ হাজার শিক্ষককে পিএইচডি অর্জনে সহায়তা দেবে ইউজিসি
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন / সংগৃহীত ছবি

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পিএইচডিধারী শিক্ষকের ঘাটতি কমাতে আগামী পাঁচ বছরে অন্তত তিন হাজার শিক্ষককে দেশে-বিদেশে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। একই সময়ে উচ্চশিক্ষায় গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাভারের ব্র্যাক সিডিএমে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব পরিকল্পনার কথা জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগিতায় ‘জুনিয়র ফ্যাকাল্টি প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’-এর প্রশিক্ষকদের জন্য এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চাহিদার তুলনায় পিএইচডিধারী শিক্ষক ও দক্ষ গবেষকের সংখ্যা এখনও পর্যাপ্ত নয়। এ ঘাটতি কমাতে চলতি বছর ইউজিসির পিএইচডি ফেলোশিপের সংখ্যা ৪০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। আগামী বছর ফেলোশিপের সংখ্যা ৫০০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক মান অর্জন করতে হলে দক্ষ শিক্ষক ও গবেষক তৈরি করতে হবে। এ জন্য আগামী পাঁচ বছরে অন্তত তিন হাজার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে পিএইচডি অর্জনে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

গবেষণায় অর্থায়নের বিষয়ে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, হিট প্রকল্পের আওতায় গবেষণার জন্য এক হাজার ২০০ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা এ অনুদানের জন্য গবেষণা প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন।

তবে অর্থায়নের ক্ষেত্রে গবেষণার গুণগত মান, নতুন চিন্তা ও দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধানে সম্ভাব্য অবদানকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে যোগ্য গবেষণা উপপ্রকল্প নির্বাচন করে অর্থায়ন করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতেও বড় পরিসরে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, হিট প্রকল্পের আওতায় প্রভাষক থেকে অধ্যাপক পর্যন্ত বিভিন্ন পদমর্যাদার পাঁচ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ডিন ও কোষাধ্যক্ষসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালনকারীদের সিদ্ধান্তের ওপর উচ্চশিক্ষার মান ও প্রতিষ্ঠানের সুশাসন অনেকাংশে নির্ভর করে। কিন্তু অনেকেই দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিচালনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ পান না। এ কারণে একাডেমিক পরিকল্পনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির বিষয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্থায়ীভাবে চালু রাখতে গাজীপুরে একটি উচ্চশিক্ষা প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান অধ্যাপক মামুন আহমেদ। তিনি বলেন, হিট প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও যাতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ বন্ধ না হয়, সে জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবিত একাডেমিতে নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের তিন থেকে ছয় মাসের আবাসিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার বাইরে আরও একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, এসব প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সরকারের নীতিনির্ধারক এবং শিল্পখাতের প্রতিনিধিদেরও অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অন্যান্য খাতের যোগাযোগ বাড়বে এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো সহজ হবে।

উচ্চশিক্ষাকে যুগোপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণ করতে পারেন। স্নাতকেরা যেন শুধু চাকরির অপেক্ষায় না থেকে উদ্যোক্তা হতে পারেন এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ আরও জানান, দেশের উচ্চশিক্ষার মান, প্রাসঙ্গিকতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে একটি কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক ও গবেষকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে হিট প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা ভূমিকা রাখতে পারবেন।

গত ৯ থেকে ১৪ অক্টোবর ছয় দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ জন শিক্ষক অংশ নেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ডেপুটি ডিরেক্টর মারিয়া রেহমান, অ্যাডভান্স এইচইর জ্যেষ্ঠ পরামর্শক মার্ক ফিলিপ ও’হারা, হিট প্রকল্পের চিফ প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক সেলিনা জামান, ফ্যাকাল্টি প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সালামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ/এসআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর