পাঁচ দফা দাবি আদায়ে ২৫ দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সামিউল আজিম। এর মধ্যে দুইটি আংশিক পূরণ হলেও বাকি তিনটি দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনের যথেষ্ট উদ্যোগ দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। দাবি পূরণ না হলে ছাত্রত্ব থাকা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এই শিক্ষার্থী।
গত ৬ সেপ্টেম্বর (রোববার) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি শুরু করেন সামিউল আজিম। প্রতিদিন বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
সামিউল আজিমের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের আয়তন ন্যূনতম ২০০ একরে উন্নীত করা, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ইমপ্রুভমেন্ট সিস্টেম চালু, বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৭৩-এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হলগুলোতে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের আমলে সংঘটিত বিভিন্ন অপকর্মের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা। এসব অপকর্মের মধ্যে খুন, গুম, গণরুম প্রথা চালু এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হেনস্তার অভিযোগের বিচার দাবি করেছেন তিনি।
সামিউল আজিম জানান, অনশন শুরুর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস ও ছাত্র পরামর্শক দফতর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। প্রথমবার সংবাদ প্রকাশের পর পাঁচটি দাবির মধ্যে দুটি দাবি আংশিকভাবে পূরণ হয়েছে। বাকি তিনটি দাবি পূরণের বিষয়ে প্রশাসন বিষয়টি দেখবে বলে জানিয়েছে। তবে এখনো বাকি দাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমি যে দাবিগুলো জানিয়েছি, সেগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি। যেহেতু দাবিগুলো অনেক দিনের, তাই সেগুলো বাস্তবায়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জোরালো উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। দাবিগুলো আদায়ের বিষয়ে প্রশাসনের আরও আন্তরিকতা ও সক্রিয়তা প্রত্যাশা করছি।’
পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে সামিউল আজিম বলেন, ‘তার দাবিগুলো পূরণ না হলে যতদিন ছাত্রত্ব থাকবে, ততদিন অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত নিজের অবস্থানে অনড় থাকার কথাও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান জানান, সামিউল আজিমের আন্দোলন ও পাঁচ দফা দাবি সম্পর্কে আমরা পুরোপুরি অবগত এবং প্রক্টর হিসেবে নিয়মিত তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তার ৫টি দাবির মধ্যে দুটি দাবি ইতোমধ্যে আংশিকভাবে পূরণ হয়েছে এবং তিনি তা মেনেও নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনের বিষয়টি নীতিগত এবং সরকারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এটি একটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।
এ ছাড়া ২০০ একর ক্যাম্পাস করার দাবিটি বর্তমানে একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে রয়েছে। এ বিষয়ে ইউজিসি ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং নির্দিষ্ট ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী জমি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসনের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়গুলোতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নীতিগত ও অন্যান্য সময়সাপেক্ষ বিষয়গুলো তাৎক্ষণিক বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হলেও তা আমাদের দিক থেকে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ড. মো. হামিদুর রহমান।
প্রতিনিধি/এসআই




