রোববার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

প্রযুক্তিকে দেশের সমস্যা সমাধানে কাজে লাগাতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম

শেয়ার করুন:

প্রযুক্তিকে দেশের সমস্যা সমাধানে কাজে লাগাতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

শুধু নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন নয়, দেশের বাস্তবতা ও মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সেই প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। 

তিনি বলেন, দেশে এমন দক্ষ মানবসম্পদ প্রয়োজন, যারা নিজেদের উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে পারবেন। বিশেষ করে ব্যয়বহুল প্রযুক্তির সুবিধা নিতে অক্ষম মানুষের কাছে মৌলিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

রোববার (১১ অক্টোবর) গাজীপুরে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার প্রকৃত সার্থকতা তখনই প্রকাশ পায়, যখন মানুষের কাজের মাধ্যমে অন্যদের জীবন আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হয়। তাই শিক্ষাজীবন শেষে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা দেশ এবং সমাজের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।

প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বাস্তবতা ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অনেক মানুষ ব্যয়বহুল প্রযুক্তি কিংবা আধুনিক সমাধানের খরচ বহন করতে পারেন না। তাদের প্রয়োজনের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। সঠিক প্রকৌশল ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বেশি পরিবারের কাছে মৌলিক সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

এ ক্ষেত্রে আইইউটির শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে এহছানুল হক মিলন বলেন, বর্তমান শিক্ষার্থীরা এমন এক সময়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করছেন, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও নতুন প্রযুক্তির কারণে প্রতিনিয়ত কাজের ধরন বদলে যাচ্ছে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে নতুন প্রযুক্তি ও বিভিন্ন টুল ব্যবহারে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে হবে।

সমাবর্তনের গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এটি একজন শিক্ষার্থীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। স্নাতকদের জন্য দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের স্বীকৃতি, অভিভাবকদের জন্য ত্যাগের সার্থকতা এবং শিক্ষকদের জন্য শিক্ষার্থীদের নতুন জীবনে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দের মুহূর্ত।

ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির আন্তর্জাতিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান গর্বের বিষয়। ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের একটি বাস্তব প্রতিফলন আইইউটি।

তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এখানে নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে পড়াশোনা করতে আসেন। এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তা ভবিষ্যতে গবেষণা, শিল্প ও শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতি অব্যাহত সহযোগিতার জন্য ওআইসি ও এর সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

এবারের সমাবর্তনে মোট ৬৫৯ শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেওয়া হয়। এ ছাড়া কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য সাত শিক্ষার্থীকে স্বর্ণপদক দেওয়া হয়েছে।

তাদের মধ্যে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আহমেদ রানী পেয়েছেন ওআইসি স্বর্ণপদক। অন্য ছয় শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে আইইউটি স্বর্ণপদক। শিক্ষামন্ত্রী পদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পদক পরিয়ে দেন এবং সনদপত্র তুলে দেন।

সমাবর্তনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মো. কায়কোবাদ সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইইউটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজ।

এমএইচ/এএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর