বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

রাবিতে সাংবাদিক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত ৭ ছাত্রদল নেতাকর্মী

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, রাবি
প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম

শেয়ার করুন:

রাবিতে সাংবাদিক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত ৭ ছাত্রদল নেতাকর্মী
হামলায় জড়িত ৭ ছাত্রদল নেতাকর্মী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কর্মরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাত নেতাকর্মীকে শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে এর আগে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছিল। আর তাদের মধ্যে দুজনকে একসময় সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হলেও পরে সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে আবারও কমিটিতে রাখা হয়।

ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত হওয়া সাতজন হলেন- বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম, সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, সহসাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম (সাজু), সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথই এবং অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী বিশাল চক্রবর্তী।

আহসান হাবিব আইন বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এই সহসভাপতিকে ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর চাঁদাবাজির অভিযোগে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল। একই ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলামকেও বহিষ্কার করা হয়। পরে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট ঘোষিত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কমিটিতেও তাদের রাখা হয়।

আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে পরে আরও একটি চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। গত বছরের ২৪ জুন রাজশাহীর বুধপাড়া এলাকায় এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ করা হয়। পরদিন ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। একই ঘটনায় মতিহার থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেন তিনি।

ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন ও সহসাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলামের (সাজু) বিরুদ্ধেও ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দুই নেতার কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদের মাধ্যমে ১০ হাজার ১০০ টাকা নেওয়া হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে মারধর, পুলিশে তুলে দেওয়া এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগও করা হয়।

হামলার ভিডিও ফুটেজে বিশাল চক্রবর্তীকে ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক নূর আহসান মৃদুলকে টেলিস্কোপিক ব্যাটন দিয়ে আঘাত করতে দেখা যায়। বিশাল অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ না করেই তিনি বেরিয়ে যান বলে জানা গেছে। ছাত্রলীগের তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহিল গালিবের সঙ্গে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্যও রয়েছে।

অন্য শনাক্তদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি। তাকবীর আহমেদ ইমন ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও সহসভাপতি। শাহরিয়ার আলম অথই সংগীত বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও সহদপ্তর সম্পাদক। আর সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম (সাজু) ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও সহসাধারণ সম্পাদক।

এদিকে হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা মামলায় কারও নাম উল্লেখ না থাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পাসে। এর প্রতিবাদে সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

রাত পৌনে ৮টার দিকে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন। তিনি জানান, উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম আন্দোলনকারীদের সঙ্গে উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে বসতে চান। তবে আন্দোলনকারীরা জানান, তাদের প্রথম দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন না।

রাত ৮টার দিকে উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রশাসন ভবনে প্রবেশ করলে তাদের উদ্দেশ্যে স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারীদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- হামলায় জড়িতদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে সেদিনই গ্রেপ্তার করা, জড়িতদের সাময়িক বহিষ্কার, তিন দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে শুক্রবারের মধ্যে জরুরি সিন্ডিকেট ডেকে স্থায়ী বহিষ্কার, যাদের ছাত্রত্ব নেই তাদের সনদ বাতিল করে ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা, হামলাকারীদের পক্ষ নেওয়া ও সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষকে অপসারণ ও তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগে প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরদের পদত্যাগ।

পরে রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সংবাদকর্মী ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হামলার সিসিটিভি ফুটেজ গোপন করার অভিযোগে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মাহবুবুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়।

এ ছাড়া তিন দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় উসকানিমূলক স্ট্যাটাসের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।

এর আগে সোমবার হামলার ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম-২-কে আহ্বায়ক করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রতিনিধি/এসআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর