সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

শিক্ষকদের মর্যাদার প্রতিফলন থাকতে হবে বেতন-ভাতায়: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম

শেয়ার করুন:

শিক্ষকদের মর্যাদার প্রতিফলন থাকতে হবে বেতন-ভাতায়: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষকদের সম্মান শুধু আনুষ্ঠানিকতা বা ফুলের তোড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে যথাযথ বেতন-ভাতা, আর্থিক নিরাপত্তা ও মানসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। যাদের হাতে দেশের সন্তানদের ভবিষ্যৎ তুলে দেওয়া হয়, তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ ও জীবনের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার, শিক্ষকদের মর্যাদা যেন শুধু ফুলের তোড়াতেই সীমাবদ্ধ না থাকে। তার বাস্তব প্রতিফলন থাকতে হবে শিক্ষকদের যথাযথ বেতন-ভাতা, পূর্ণ নিরাপত্তা এবং মানসম্মত কর্মপরিবেশের মধ্যে।

শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে বেসরকারি শিক্ষকদের বেতনের ৫০ শতাংশ এমপিওভুক্তির মাধ্যমে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, পরে তা শতভাগে উন্নীত করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষকদের অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেতন স্কেল বৃদ্ধি এবং অবসরভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্ট চালু করা হয়েছিল।

বর্তমান সরকার শিক্ষকদের অধিকার ও অবসরকালীন সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া হয়রানিমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে এহছানুল হক মিলন বলেন, স্বয়ংক্রিয় অনলাইন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে সম্প্রতি প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার শিক্ষকের কাছে কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা যাদের হাতে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ সঁপে দিই, তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী।

শিক্ষকতা পেশাকে আকর্ষণীয় করে তুলতেও যথাযথ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একসময় মেধাবী শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনকারীরা শিক্ষকতা পেশায় আসতেন। সেই অবস্থায় ফিরে যেতে হলে শিক্ষকতা পেশার মর্যাদার পাশাপাশি আর্থিক ও পেশাগত নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।

এআই ও প্রযুক্তির যুগে শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তার ব্যবহারিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের ক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকা শিক্ষকদের মতামতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

শিক্ষকের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না, প্রতিদিনের কাজের মাধ্যমে আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তোলেন। শ্রেণিকক্ষের শেষ বেঞ্চে বসে থাকা চুপচাপ বা লাজুক শিক্ষার্থীর দিকেও শিক্ষকের নজর থাকতে হবে। তাকে সাহস দেওয়া এবং তার মধ্যে স্বপ্ন জাগিয়ে তোলাও শিক্ষকের দায়িত্ব।

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে এবার শতাধিক গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগে এই দিবসে ১২ জন শিক্ষককে পুরস্কৃত করা হতো। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ১০২ জন করা হয়েছে। শিক্ষক সমাজের প্রতিটি প্রয়োজনে সরকার পাশে থাকবে। শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

এমএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর