সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

রাবিতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদলের হামলা, আহত ১০ সাংবাদিক

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, রাবি
প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম

শেয়ার করুন:

রাবিতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদলের হামলা, আহত ১০ সাংবাদিক
রাবিতে হামলার কোলাজ ছবি। ছবি: ঢাকা মেইল

সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। এতে আহত হন অন্তত ১০ জন সাংবাদিক।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ হামলা করা হয়।

গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন—বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। বর্তমানে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে মিছিল নিয়ে হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামকে মারার উদ্দেশ্যে জিয়াউর রহমান হল গেটে আসেন ছাত্রদল নেতারা। এ সময় তাদের হাতে বস্তাবোঝাই দেশীয় অস্ত্র—রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক, পাইপ ইত্যাদি ছিল। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হল গেটে অস্ত্র হাতে দেখতে পেয়ে দৈনিক সমকাল ও আজকের পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ভিডিও করার জন্য এগিয়ে গেলে প্রক্টরের উপস্থিতিতে সমকালের প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো শুরু করেন তারা। পরে আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মোবাইল কেড়ে নিতে তেড়ে যান। একপর্যায়ে সেখানে বিডিনিউজ ২৪ ডটকমের প্রতিনিধিকে পেটানো শুরু হয়। পরে প্রক্টর সাংবাদিকদের হলের ভেতরে ঢুকিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।

image

সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য সাংবাদিকরা এলে দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধিকে বেধড়ক মারধর করেন নেতাকর্মীরা। এতে আগামীর সময়ের প্রতিনিধির মাথা ফেটে যায়। এ ছাড়া অন্য সাংবাদিকদের রক্ষা করার জন্য এগিয়ে এলে তাদেরও লাঠি দিয়ে পেটানো হয় ও পুঁতে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।

এ ঘটনার সূত্রপাত রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্য ঘিরে। আহসান হাবীবের অভিযোগ, ওই পোস্টের মন্তব্যে রাকসুর সহ-সংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল তার মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করেছেন।

অন্যদিকে রাকিবুলের দাবি, তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন আহসান হাবীব। পরে দুজনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে পাল্টাপাল্টি পোস্ট করেন।

image

সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন রাকিবুল। পরে বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে সেখানে অবস্থান নেন আহসান হাবীব। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর হাতে ব্যাট দেখা যায়। তারা সেখানে রাত ১০টা পর্যন্ত অবস্থানের ঘোষণা দেন। ছাত্রদলের এ অবস্থানের সমালোচনা করে ফেসবুক পোস্টে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম লেখেন, ‘তারেক রহমানের সোনার ছেলেরা চাঁদাবাজি ছেড়ে দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে। এরপর ছাত্রদলের ওই নেতাকর্মীরা রড, পাইপ, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে বেধড়ক মারধর করা হয়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ, আমাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি, কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে।’

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর