ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাকির আলম (১৮তম বিজেএস সুপারিশপ্রাপ্ত) বলেছেন, আমার সাফল্যের পেছনে বড় শক্তি হলো মায়ের নিঃস্বার্থ দোয়া ও শুভাশিস। মায়ের দোয়া না থাকলে এই অবস্থান কল্পনাও করা যেত না। আমার ভাই তৌহিদের সার্বিক সমর্থন ও প্রেরণা ছিল অন্যতম শক্তি। বিভাগের শিক্ষকদের পাঠদান, দিকনির্দেশনা এবং বন্ধু আরিফ ও আনোয়ারের যৌথ একাডেমিক সহযোগিতা দীর্ঘ পথচলাকে সহজ করেছে।
শুক্রবার (০২ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আইন অনুষদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্যে সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের আরিফ হোসাইন (১৬তম বিজেএস), একই শিক্ষাবর্ষের আনোয়ার হোসাইন (১৮তম বিজেএস) ও আইন অনুষদের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
এসময় সাকির আলম বলেন, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার রেজাল্ট শুনার মুহূর্তটি ছিল অবিশ্বাস্য ও আবেগঘন। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, সততা আর ত্যাগের পরে মেধাতালিকায় ৩৪তম স্থান অর্জন করতে পেরে কৃতজ্ঞতায় মন ভরে গিয়েছিল। এটি একটি স্বপ্নের পূর্ণতা পাওয়ার পরম তৃপ্তি।
তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালেই মূল লক্ষ্য নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সমাজকে ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ থেকেই বিচার বিভাগকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার স্বপ্ন হৃদয়ে লালন করতে শুরু করি।
সাকির আলম বলেন, রেজাল্ট জানার পর মা ও ভাই তৌহিদসহ পরিবারের সকলের চোখে ছিল আনন্দাশ্রু। মায়ের হাসি আর দোয়াপূর্ণ মুখটি আমার জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি। শুভ স্যারসহ বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ আনন্দিত হয়ে উষ্ণ শুভকামনা জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোতে তাদের দিকনির্দেশনা ও স্নেহ সফলতার অন্যতম ভিত্তি।
পরীক্ষার চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরপর দুইবার ভাইভাতে ব্যর্থ হয়ে হতাশা ও অনিশ্চয়তা সামলানোই ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ। কঠিন সময়ে পরিবার ও বন্ধুদের আত্মবিশ্বাস এবং সিনিয়র বড় ভাইদের সহযোগিতা আমাকে নতুন করে প্রেরণা যুগিয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতি পেরিয়ে নিজের ওপর বিশ্বাস ধরে রাখাই ছিল মূল পরীক্ষা।
দৈনন্দিন পড়াশোনার রুটিন নিয়ে সাকির বলেন, প্রস্তুতির সময় নির্দিষ্ট ঘণ্টার চেয়ে গুণগত মানের ওপর বেশি জোর দিতাম। সিপিসি, সিআরপিসি, হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের বিভিন্ন জটিল বিধান, নজির এবং মূল আইনগুলোর (Bare Acts) ওপর গভীর মনোযোগ থাকত। বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত আইনগত বিষয়ে আলোচনা ও বিশ্লেষণমূলক পড়াশোনা করাটা রিভিশনকে অনেক জোরালো করে তুলেছিল।
এই বিজেএসে যারা সুপারিশপ্রাপ্ত হয়নি তাদের উদ্দেশে বলেন, বিজেএস পরীক্ষা কেবল একটি মেধা যাচাইয়ের ক্ষেত্র নয়, এটি চরম ধৈর্যেরও পরীক্ষা। একবার বা দুইবার না হওয়া মানে পথ শেষ হয়ে যাওয়া নয়। এটি আপনার ঘাটতিগুলো চিনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পড়াশোনা চালিয়ে মা ও প্রিয়জনদের দোয়া সঙ্গে রাখুন। সঠিক সময়ে পরিশ্রমের ফল অবশ্যই মিলবে।
প্রতিনিধি/টিবি




