বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছাড়া পেলেন কুষ্টিয়ার সেই শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১১ এএম

শেয়ার করুন:

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছাড়া পেলেন কুষ্টিয়ার সেই শিক্ষক
পুলিশ সদস্যের বাইকের পেছনে লাল পাঞ্জাবি পরিহিত কুষ্টিয়ার সেই শিক্ষক

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ভাষণের বাংলা উচ্চারণ নিয়ে শ্রেণিকক্ষে সমালোচনা করে আটক হওয়া কুষ্টিয়ার সেই স্কুলশিক্ষক ছাড়া পেয়েছেন। খোদ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।  

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ সদস্যরা ওই শিক্ষককে সসম্মানে তার বাড়িতে পৌঁছে দেন।

আটকের পর ব্যাপক আলোচনায় আসা ওই শিক্ষকের নাম গোলাম কিবরিয়া লালন। তিনি জেলার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক। 

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট নির্দেশনায় শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশি নিরাপত্তায় তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে শিক্ষককে ছেড়ে দেওয়ার পটভূমি ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। 

সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে শ্রেণিকক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এক শিক্ষকের মন্তব্যের জেরে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার লোকজনের মধ্যে অসন্তোষ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভের মুখে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ওই শিক্ষককে হেফাজতে নিয়ে থানায় যায়।

মাহ্‌দী আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আটকের ঘটনা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হলে তিনি সংক্ষুব্ধ হন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দেন, যেন শিক্ষককে কোনো প্রকার হেনস্তা না করে সসম্মানে ও নিরাপদে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই স্পষ্ট নির্দেশনার পরপরই দৌলতপুর থানা পুলিশ শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে নিরাপত্তা দিয়ে বাড়ি পৌঁছে দেয়।


প্রধানমন্ত্রীর গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে মাহ্‌দী আমিন আরও লেখেন, প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, ভিন্নমত থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং প্রতিটি মানুষেরই নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। কারও মতের সঙ্গে দ্বিমত থাকলেও তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে শ্রদ্ধা জানানোই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মূল ভিত্তি। পারস্পরিক সম্মানবোধ, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও সহাবস্থানের চর্চাই সমাজকে আরও সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করবে বলে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।

এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ভেড়ামারা-প্রাগপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রাগপুর এলাকা থেকে শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে আটক করা হয়। 

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশের অভিযোগ ছিল, গত মঙ্গলবার বিকেলে দশম শ্রেণির বাংলা পাঠদানের সময় জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বাংলা ভাষণের প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষক লালন প্রধানমন্ত্রীর বাংলা উচ্চারণের ধরন নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন।

এ কথা বাইরে জানাজানি হলে বুধবার সকালে কিছু লোক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে। তারা শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলে। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হলে পুলিশ শিক্ষক লালনকে আটক করে নিয়ে যায়।

তবে পুরো ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল। 

তার ভাষ্যমতে, শিক্ষক লালন কোনো প্রকার কটূক্তি বা আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ অস্বীকার করেন। 

দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকায় প্রধানমন্ত্রীর বাংলা উচ্চারণে কিছুটা অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে- শ্রেণিকক্ষে সাধারণ আলোচনা প্রসঙ্গে এমনটাই নাকি বলেছিলেন শিক্ষক লালন। যা পরে অতিরঞ্জিত ভাবে বাইরে প্রচার করা হয়।

এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর