মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে মিডিয়া যুদ্ধ নিয়েও লড়াই: জবির সেমিনারে বক্তারা

জবি প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২২ পিএম

শেয়ার করুন:

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে মিডিয়া যুদ্ধ নিয়েও লড়াই: জবির সেমিনারে বক্তারা

পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতে সামরিক লড়াইয়ের পাশাপাশি তথ্য ও বয়ান নিয়েও লড়াই চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। যুদ্ধের সংবাদ পরিবেশনে তথ্য যাচাই, মানবিক মর্যাদা, ভারসাম্য ও গণমাধ্যমের নৈতিক দায়িত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের উদ্যোগে ‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও বিশ্ব মিডিয়া: নৈতিক দায়বদ্ধতা ও আত্মপর্যালোচনা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা তুলে ধরেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক গ্রেগরি জে. সিমনস। বক্তব্য দেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী, জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন এবং রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূতের প্রেস সেক্রেটারি সোফিয়া কুতেপোভা। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর।

মূল প্রবন্ধে গ্রেগরি জে. সিমনস পশ্চিমা গণমাধ্যমের ভূমিকা, যুদ্ধের তথ্যগত ও মনস্তাত্ত্বিক দিক এবং বিকল্প গণমাধ্যমের উত্থান নিয়ে আলোচনা করেন। তার মতে, যুদ্ধের সময় তথ্য ও বয়ান নিয়ন্ত্রণও সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী বলেন, যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা হলো মিডিয়া যুদ্ধ। পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যমে ফিলিস্তিন ও গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ এবং ইসরায়েলকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, পশ্চিমাদের এই যুদ্ধের বয়ান বা ন্যারেটিভ সম্পূর্ণ অন্যায় ও পক্ষপাতদুষ্ট।

রুশ দূতাবাসের প্রেস সেক্রেটারি সোফিয়া কুতেপোভা বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাত শুরুর আগে সামরিক, রাজনৈতিক ও প্রচারণামূলক প্রস্তুতির ধরন বড় ধরনের সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছিল।

সাংবাদিকতার নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মিডিয়া কর্মীদের জন্য সত্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আমাদের দর্শক ও পাঠকদের সঠিক তথ্য প্রদান ও নিখুঁত থাকার জন্য তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।

জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন যুদ্ধকে শুধু সামরিক বা রাজনৈতিক সংঘাত হিসেবে না দেখে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ কেবল সেনাবাহিনী, সরকার বা রাজনৈতিক স্বার্থের মধ্যকার সংঘর্ষ নয়। এর গভীরতম স্তরে, যুদ্ধ হলো একটি মানবিক ট্র্যাজেডি।

যুদ্ধকালীন সংবাদ পরিবেশনে সত্যতা যাচাই, মানবিক মর্যাদা ও ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে উপাচার্য বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ছবি, ভিডিও বা অভিযোগ প্রচারের আগে তা যাচাই করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, মিডিয়া একা কোনো যুদ্ধ বন্ধ করতে পারে না, তবে মানুষ কীভাবে যুদ্ধকে অনুধাবন করে, তা প্রভাবিত করতে পারে।

সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক, আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আহমদ ইহসানুল কবীরসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদক/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর