নিয়োগের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান।
নিয়োগের একদিন পর রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
একই দিন নতুন উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল ও সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলামকে পুনর্বহালের দাবিতে সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
অধ্যাপক লুৎফর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালমা বেগম।
তিনি বলেন, ‘লুৎফর স্যার আজ ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভিসির দায়িত্ব নিয়েছেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সভায়ও অংশ নিয়েছেন।’
এর আগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমানকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন, ২০২৬-এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী তাকে উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে তার মেয়াদ হবে চার বছর। তবে এর আগে অবসরের বয়সসীমা পূর্ণ হলে সেই সময় পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
উপাচার্য হিসেবে তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা এবং বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অধ্যাপক লুৎফর রহমানকে উপাচার্য নিয়োগের পর থেকেই এর বিরোধিতা করছেন একদল শিক্ষার্থী। তাদের দাবি, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলামকে পুনর্বহাল করতে হবে।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সকাল ১০টার পর বিভিন্ন ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা হাতে ‘লালকার্ড’ নিয়ে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে জড়ো হন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট আমরা ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে মানতে যাচ্ছি না। আমাদের দাবি ছিল, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত মানা যাবে না। কিন্তু আমরা দুঃখজনকভাবে দেখছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আমাদের ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটা ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির জন্য লজ্জাজনক ও দুঃখজনক।’
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে আরও রয়েছে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিকে দ্রুত স্কুলিং মডেলে রূপান্তর করা, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব সেশনকে ধারাবাহিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করে একাডেমিক রোডম্যাপ ঘোষণা, সাতটি ক্যাম্পাসের যেকোনো একটিতে দ্রুত প্রশাসনিক ভবন চালু এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম অবিলম্বে শুরু করা।
এমএইচ/এএইচ



