রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ইবির ভাড়া করা বাসের চাপায় শিক্ষার্থীর বাবার মৃত্যু, ৬ দাবিতে স্মারকলিপ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, ইবি
প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম

শেয়ার করুন:

ইবির ভাড়া করা বাসের চাপায় শিক্ষার্থীর বাবার মৃত্যু, ৬ দাবিতে স্মারকলিপ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিবহন পুলের ভাড়া করা বাসের চাপায় সড়ক দুর্ঘটনায় আইন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী লিখনের বাবা মো. আনোয়ার হোসেন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চালকের বিচার, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ক্ষতিপূরণসহ ছয় দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত মানববন্ধন শেষে উপাচার্যের কার্যালয়ে তারা স্মারকলিপি জমা দেন।

জানা গেছে, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী লিখনের বাবা মো. আনোয়ার হোসেন কুষ্টিয়া-ক্যাম্পাস সড়কের ১১ মাইল চার রাস্তার মোড়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের ভাড়া করা একটি বাসের চাপায় তিনি নিহত হন।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা এ দুর্ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থার ত্রুটিকে দায়ী করে ছয় দফা দাবি জানান।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্ত চালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া; নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাসসংলগ্ন মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদারে হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া; নিহতের পরিবারকে কমপক্ষে ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং শিক্ষার্থী লিখনের শিক্ষাজীবনের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেওয়া।

এ ছাড়া পরিবহনসংক্রান্ত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে স্থায়ী মনিটরিং সেল গঠন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাসের সংখ্যা বাড়ানো এবং চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাইসহ নিয়মিত ভেরিফিকেশন নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

ভাড়া করা বাসের গতিসীমা লঙ্ঘন ও উল্টো পথে গাড়ি চালানোর অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বাসের চুক্তি বাতিল, আইনগত ব্যবস্থা এবং মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদারের দাবিও জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সময় আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেন, লিখনের বাবাই তাদের পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তারা দ্রুত দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘এ দুর্ঘটনার জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পর্যালোচনা করে এবং দুর্ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর