ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) চলমান আন্তঃবিভাগ ও আন্তঃহল ফুটবল টুর্নামেন্টে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মধ্যকার খেলায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে দুই বিভাগের খেলা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
খেলোয়াড় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খেলার দ্বিতীয়ার্ধে ইসলামের ইতিহাস বিভাগ পরিসংখ্যান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগ থেকে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল। একপর্যায়ে তাদের ডাগআউটে বল থ্রো-ইন হলে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের খেলোয়াড় মশিউর বল আনতে যান। তখন দর্শক সারিতে থাকা ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা বল দিতে সময়ক্ষেপণ করায় মশিউরের সাথে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এরই জের ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পরে দুই বিভাগের শিক্ষার্থী ও খেলোয়াড়রা আশপাশে থাকা চারাগাছ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হাতাহাতি ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে খেলা আয়োজক কমিটি ও দুই বিভাগের শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, খেলার শেষ মুহূর্তে বল থ্রো-ইন হওয়ায় তাদের বিভাগের খেলোয়াড় মশিউর বল আনতে যান। এ সময় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা সময়ক্ষেপণের উদ্দেশ্যে বলটি দূরে ফেলে দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা মশিউরকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে লাঠিসোঁটা নিয়ে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
প্রাথমিক তথ্যমতে, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ বর্ষের আলিফ খান, রাহাত আলিফ, সিয়াম খন্দকার, ইয়াসিন আরাফাত, তোফাজ্জল চৌধুরী ও ২০২৫-২৬ বর্ষের আবু রায়হান, ফাহিম ফাহাদ এবং ইসলামের ইতিহাস বিভাগের ২০১৯-২০ বর্ষের সোহাগ, ২০২২-২৩ বর্ষের হুমায়ুন কবিরসহ প্রায় দশের অধিক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য ইবি মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের আলিফ খানের মাথায় আঘাত ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সোহাগের ডান হাতের কব্জিতে ফ্র্যাকচার হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়াতে পাঠানো হয়।
আহত ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবির বলেন, বল নিয়ে কথা কাটাকাটি হওয়ার পর একজন আমাকে পেছন থেকে ধরে উল্টে ফেলে দেন। এরপর অন্যরা আমাকে এলোপাতাড়ি পা দিয়ে মাথায়-মুখে লাথি মারতে থাকেন। এতে আমার মুখ ও দাঁত ফেটে গেছে।
এ বিষয়ে ইবি মেডিকেলের দায়িত্বরত চিকিৎসক বদিউজ্জামান বলেন, আহত অবস্থায় কয়েকজন শিক্ষার্থী মেডিকেলে আসে। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছে। এদের মধ্যে একজনের মাথা ফেটে গেছে এবং আরেকজনের ঠোঁট কেটে যাওয়া ও দাঁতে আঘাত পাওয়ায় সেলাই দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শাহীনুজ্জামান বলেন, আহতদের মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। দুই বিভাগের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করেছি। তবে খেলাটি স্থগিত রয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত রেফারি তার নিয়ম অনুযায়ী নেবেন।
প্রতিনিধি/এলএ




