মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্রুত সংস্কার চান শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম

শেয়ার করুন:

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্রুত সংস্কার চান শিক্ষামন্ত্রী

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, পরীক্ষা পদ্ধতি ও কলেজ তদারকিতে দ্রুত পরিবর্তনের তাগিদ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম আধুনিকীকরণ ও অধিভুক্ত কলেজগুলোর তদারকি নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন এহছানুল হক মিলন। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহকে নির্দেশনা দেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উপাচার্যের হাতে এখনো অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সাত মাসে সবকিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে উদ্যোগ ও কাজের গতি দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন। উপাচার্যের নেতৃত্বে যে দল দায়িত্ব পেয়েছে, তাদের উৎপাদনশীলতা ও কাজের ফলাফল সরকার দেখতে চায়।

এহছানুল হক মিলন বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। এত বড় শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বাজারের চাহিদাভিত্তিক কোর্স চালু, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম আধুনিকীকরণ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা জরুরি।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রায় ২ হাজার ৩০৭টি কলেজ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। কোন কলেজে কোন শিক্ষক কীভাবে পাঠদান করছেন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কেমন—এসব তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

শ্রেণিকক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

এহছানুল হক মিলন বলেন, শুধু পরীক্ষার হল নয়, শ্রেণিকক্ষেও ক্যামেরা ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে কোন শিক্ষক কী পড়াচ্ছেন, ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কেমন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক যোগাযোগ কেমন—এসব বিষয় সংরক্ষণ করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে এসব তথ্য পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে।

পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এমন কিছু বিষয় দেখেছেন, যা তাকে হতাশ করেছে। পরীক্ষার ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোরতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে।

এসএসসি পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবার পুনর্নিরীক্ষণে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এতে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে হবে। খাতা মূল্যায়নে ভুল হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষককে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে প্রশ্ন প্রণয়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

প্রশ্ন প্রণয়নের প্রচলিত পদ্ধতির সমালোচনা করে এহছানুল হক মিলন বলেন, ১০০ জন শিক্ষককে দিয়ে প্রশ্ন তৈরি করালে ৯০ জনের প্রশ্নের মধ্যে মিল পাওয়া যায়। অনেক সময় গাইড ও নোটবইয়ের সঙ্গেও প্রশ্নের মিল দেখা যায়। এ ধরনের পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রশ্ন প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের সেরা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে। শিক্ষার্থীরা মেধাবী, শিক্ষকেরাও মেধাবী। মূল সমস্যা ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় ও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাব। তাই শিক্ষকদের উৎসাহ ও পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনতে হবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এম/এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর