চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হল সংসদের নির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) রিপুল চাকমাকে পিটিয়ে হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হলের একটি কক্ষে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী থাকার অভিযোগের পর হল সংসদ ও প্রশাসনের সদস্যদের তদারকির সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এ ঘটনার একটি অডিও রেকর্ড ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
হল সংসদ ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত নাছিম উদ্দিন শাখা ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক। সোমবার হলের ৩১৩ নম্বর কক্ষে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী থাকার অভিযোগ পেয়ে সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক ড. মো. নূরে আলমসহ হল সংসদের কয়েকজন সদস্য সেখানে যান। এ সময় কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়।
হল সংসদের ভিপি রিপুল চাকমার অভিযোগ, একপর্যায়ে নাছিম উদ্দিন তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘চাকসুর মেয়াদ গুনে গুনে ২৮ দিন আছে, এরপর পিটিয়ে বের করব।’
রিপুল চাকমা বলেন, রোববার তিনি কয়েকটি জিনিসপত্র নিয়ে একজনকে হলে এসে ৩১৩ নম্বর কক্ষে উঠতে দেখেন। বিষয়টি তিনি হলের গ্রুপে জানান। পরে শিক্ষকসহ তারা ওই কক্ষে যান। সেখানে একপর্যায়ে তাকে হুমকি দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, ওই কক্ষ নিয়ে আগে থেকেই সমস্যা রয়েছে। বিশেষ বিবেচনায় সেখানে সিট দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কক্ষে চারটি করে সিট থাকলেও সেখানে পাঁচটি সিট দেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রার্থনাকক্ষের একটি সিটও থাকার জন্য দেওয়া হয়েছে বলে তার দাবি।
তবে নাছিম উদ্দিনের দাবি, রিপুল চাকমা তাকে গালি দেওয়ার পর তিনি হুমকি দেন। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে বললাম, আমাদের রুম নিয়ে মিথ্যা অপবাদ দিতে পারিস না। তখন সে বলে, এটা তার অধিকার। আমাকে গালি দিলে আমি তখন তাকে হুমকি দিই। আমাকে গালি দেওয়ার জন্য তাকে ভিপি বানানো হয়নি। আমি হুমকি দিয়েছি, তবে আমাকে গালি দেওয়ার পর।’
সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক ড. মো. নূরে আলম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর আমি ৩১৩ নম্বর কক্ষে যাই। কিন্তু কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা জানায়, অবৈধ কেউ নেই, তারা অতিথি ছিলেন। এরপর কথা-কাটাকাটি হয়।’
এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হলের একটি কক্ষে অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে যা হয়েছে, অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’
প্রতিনিধি/এসএস




