সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

গবেষণা ও উদ্ভাবনে ৫০০ কোটি টাকার তহবিল সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম

শেয়ার করুন:

গবেষণা ও উদ্ভাবনে ৫০০ কোটি টাকার তহবিল সরকারের

দেশের উচ্চশিক্ষায় গবেষণা ও উদ্ভাবন বাড়াতে ৫০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে সরকার। পাশাপাশি শিক্ষকদের গবেষণা প্রকল্পে বরাদ্দ সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সরাসরি অর্থায়ন, পিএইচডি বৃত্তি বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও জানিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের অডিটোরিয়ামে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং শিক্ষকদের নির্বাচিত সেরা গ্রন্থ ও নিবন্ধের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল-মামুন।

ড. আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, গবেষণা, উদ্ভাবন ও জাতীয় উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য গবেষণায় অর্থায়ন বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গবেষণায় সম্পৃক্ত করা, উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ এবং শিল্প খাতের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গবেষণায় অর্থায়নের তথ্য তুলে ধরে ইউজিসি সদস্য বলেন, আগে শিক্ষকদের গবেষণা প্রকল্পে দুই লাখ ৬০ হাজার থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হতো। এখন তা বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের গবেষণায়ও সরাসরি অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা গবেষণা প্রকল্প, মনোগ্রাফ বা অ্যাসাইনমেন্টের জন্য এ অর্থের আবেদন করতে পারবেন।

উদ্ভাবনের জন্য ৫০০ কোটি টাকার একটি তহবিল তৈরি করা হয়েছে জানিয়ে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরির জন্য প্রস্তুত করলে হবে না, তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতাও তৈরি করতে হবে।

গবেষক তৈরিতে বৃত্তির পরিধিও বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়ে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, পিএইচডি গবেষকদের বৃত্তির সংখ্যা ১৫ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করা হয়েছে। আগামী বছর এ সংখ্যা ৫০০ করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে পোস্ট-ডক্টরাল বৃত্তির পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে।

শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে দেশের প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউজিসি সদস্যের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণেও আলাদা অর্থায়ন করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক কার্যক্রম জোরদার করতে প্রায় ৩০ কোটি টাকার তহবিল দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষক ও গবেষকদের দেশে এনে পাঠদান ও গবেষণায় যুক্ত করার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অধ্যাপক আল-মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়। নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধানেও বিশ্ববিদ্যালয়কে ভূমিকা রাখতে হবে। গবেষণার ফল শুধু প্রকাশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তি, পণ্য ও সেবায় রূপান্তর এবং নীতিনির্ধারণে কাজে লাগাতে হবে।

DU1

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে শিল্প খাতের সঙ্গে যুক্ত করতেও নতুন পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সহযোগিতা ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ইউনিটের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনের ফল শিল্পায়নে কাজে লাগানোর লক্ষ্য রয়েছে।

অনুষ্ঠানে ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালের বিএসএস (সম্মান) পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষকদের নির্বাচিত সেরা গ্রন্থ ও নিবন্ধের জন্যও পুরস্কৃত করা হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, সহ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।

এমএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর