নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতা’ শীর্ষক ব্যানার টাঙানো ও খুলে ফেলা নিয়ে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বুধবার রাতে জাতীয় ছাত্রশক্তির নোবিপ্রবি শাখার টাঙানো ব্যানার প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা খুলে ফেলার পর সংগঠনটির নেতাকর্মীরা আবারও নতুন ব্যানার টাঙান। তবে রাত পেরোতেই সেই ব্যানারও ক্যাম্পাস থেকে উধাও হয়ে যায়।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে এসব ব্যানার টাঙান জাতীয় ছাত্রশক্তির নোবিপ্রবি শাখার নেতাকর্মীরা।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্যানারগুলোতে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও কৃষি, ব্যাংক খাত, আইনশৃঙ্খলা ও চাঁদাবাজি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও নিয়োগ-বাণিজ্য এবং শিক্ষাঙ্গনের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
এতে দেশের সার্বিক অবস্থা নিয়ে ১২টি, জ্বালানি খাত নিয়ে পাঁচটি, বিদ্যুৎ ও কৃষি নিয়ে তিনটি, ব্যাংক খাতের দখল ও লুটপাট নিয়ে তিনটি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও চাঁদাবাজি নিয়ে পাঁচটি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ ও নিয়োগ-বাণিজ্য নিয়ে চারটি এবং শিক্ষাঙ্গনের নৈরাজ্য নিয়ে তিনটি পয়েন্ট উল্লেখ করা হয়।

নোবিপ্রবি ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিএনপি সরকারের গত ১৮০ দিনের ব্যর্থতার যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তারই ধারাবাহিকতায় নোবিপ্রবি ছাত্রশক্তি শাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় তা প্রদর্শন করছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের জ্বালানি সংকট, সার্বিক পরিস্থিতি, ব্যাংক খাতে লুটপাট এবং বিভিন্ন দপ্তরে দলীয়করণের প্রতিবাদে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে ব্যানার ও পোস্টার লাগিয়েছি। আশা করি, বর্তমান সরকার তাদের ভুলগুলো সংশোধন করবে।’

ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের ভাষ্য, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এসে তাদের টাঙানো ব্যানারগুলো খুলে ফেলেন। এ সময় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের বাক্বিতণ্ডা হয়।
পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা চলে গেলে রাত ১টার দিকে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা নতুন ব্যানার এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে আবারও টাঙান।
তবে বৃহস্পতিবার সকালে ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, রাতে টাঙানো নতুন ব্যানারটিও নেই। কে বা কারা ব্যানারটি সরিয়ে নিয়েছে বা ছিঁড়ে ফেলেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যানার খুলে দেওয়ার পর আমরা পুনরায় লাগাই। সকালে ব্যানার না দেখতে পেয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, তারা খুলেনি।’
প্রশাসনের বক্তব্যের পর ব্যানার সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ভিন্ন কোনো পক্ষ জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বলে জানান তিনি। তার অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের ‘দলীয় বাহিনী’র মাধ্যমে ব্যানার সরিয়ে নেওয়ার কাজ করিয়েছে। তিনি এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
শহিদুল ইসলাম আরও বলেন, ‘বর্তমান বিএনপি সরকার যেমন বিরোধী দলকে দমনের মাধ্যমে তাদের ব্যর্থতা লুকাতে চায়, ঠিক তেমনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের পোষা বাহিনীর মাধ্যমে অন্যান্য ছাত্রসংগঠনকে দমন করার উদ্দেশ্যে এরকম ন্যক্কারজনক কাজ করেছে বলে আমরা ধারণা করছি।’
তবে ব্যানার সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের কোনো পক্ষ বা কোনো ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার সরিয়ে নিয়েছেন—ছাত্রশক্তির এমন অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিনিধি/এসএস




