নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত অংশের নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে দলীয়করণ ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ভাষাশহীদ আবদুস সালাম হল, আবদুল মালেক উকিল হল, বিবি হযরত খাদিজা হল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিনিকেতন এলাকা প্রদক্ষিণ করে আবার শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ভাইভা না মেধা—মেধা মেধা’, ‘বেশি মার্ক ভাইভায়, দলের লোক চাকরি পায়’, ‘ভাইভার নামে দলীয়করণ, মানি না মানব না’, ‘দিকে দিকে খবর দে, ভাইভা কোটার কবর দে’ এবং ‘নব্য কোটার নাম কী, ভাইভা ছাড়া আর কী’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ শেষে নোবিপ্রবির আইন বিভাগের ১৮তম আবর্তনের শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘একটা গোষ্ঠী তাদের পোষ্যদের ক্ষমতায় নেওয়ার জন্য পাঁয়তারা করছে। তারা মেধাকে বাদ দিয়ে ভাইবার মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে দলীয়করণ করছে। আপনারা যদি জালিয়াতি রুখতে না পারেন, তাহলে আপনাদের সরকারে থাকার কোনো দরকার নেই।’
সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম রাফি বলেন, ‘সরকারের প্রশাসনিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় ১১ থেকে ২০ গ্রেডের চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা আগে দেখেছি, লিখিত পরীক্ষায় ভালো করার পরও শুধু সরকারবিরোধী দলের সমর্থক বা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে অনেক সময় চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাই ভাইভায় বেশি নম্বর দেওয়া হলে এ ধরনের দলীয়করণের আশঙ্কা থেকেই যায়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমরা আজ এখানে কোনো দলের বিরুদ্ধে বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাঁড়াইনি। আমরা দাঁড়িয়েছি অযৌক্তিক ও নীতিবহির্ভূত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। বর্তমান সরকার জালিয়াতি ও প্রক্সি রোধের অজুহাত দেখিয়ে ভাইভায় নম্বর বৃদ্ধির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘২৪-এর শিক্ষার্থীরা কোটার বিরুদ্ধে রক্ত ঝরিয়েছে। আমরা ভাইভার নামে আর কোনো কোটার কার্ড দেখতে চাই না। ছাত্রসমাজ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি চায়। ভাইভায় অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া হলে জালিয়াতি রোধের বদলে নতুন জালিয়াতির সুযোগ তৈরি হবে।’
আব্দুর রহমান বলেন, ‘কিছুদিন আগে সরকারের একজন মন্ত্রীকে বলতে শুনেছি, যেকোনোভাবে লিখিত পরীক্ষায় পাস করে আসো, ভাইভা আমরা দেখব। আমাদের মনে হচ্ছে, ওই সিদ্ধান্তকে আইনগতভাবে বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে সরকার। আমরা মনে করি, সরকারের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তামাশার মতো। সরকার যদি এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে, তাহলে আমরা আন্দোলনকে আরও সামনের দিকে নিয়ে যাব।’
উল্লেখ্য, গত রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই নোবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভ মিছিল করেন।
প্রতিনিধি/এসএস




