মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ফ্যাকাল্টি ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামি স্কলার ড. মোস্তফা হাসান শাহীন বলেছেন, ‘শুধু পাঠ্যক্রমে ইসলাম বা ইসলামি কাঠামো সংযোজন করলেই কোনো প্রতিষ্ঠানকে সফলভাবে ইসলামিকরণ করা যায় না। এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে মানুষের চিন্তা, নৈতিকতা ও আচরণে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে তার ওপর।’
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আশুলিয়ায় মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়ামে স্টাডি ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইসলামাইজেশন অব নলেজ ইন দ্য এরা অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ বা ‘আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে জ্ঞানের ইসলামিকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে মূল বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মোস্তফা হাসান শাহীন বলেন, ‘জ্ঞানের ইসলামিকরণ মূলত জ্ঞান, মূল্যবোধ ও সভ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বৃহত্তর বুদ্ধিবৃত্তিক প্রকল্প। ইসলামি সভ্যতার পুনর্গঠনে জ্ঞানের ইসলামীকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।’
তিনি বলেন, ‘ইসলামে জ্ঞানকে মূলত উপকারী ও অপকারী- এই দুই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়। জ্ঞানের ইসলামিকরণের উদ্দেশ্য কোনো জ্ঞানকে অস্বীকার করা নয়; বরং জ্ঞানচর্চাকে ইসলামি মূল্যবোধ ও মানবকল্যাণের সঙ্গে যুক্ত করা।’
আরও পড়ুন: ‘বিজ্ঞান শিক্ষা ইসলামিকরণে গুরুত্ব দিতে হবে’
এসময় গবেষণার ক্ষেত্রে মুসলিমদের নিজস্ব চিন্তা ও গবেষণার সক্ষমতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন ড. মোস্তফা হাসান শাহীন।
তিনি বলেন, ‘কোরআন-হাদিস বোঝার ক্ষেত্রেও নিজস্ব গবেষণা ও চিন্তার সক্ষমতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইজতিহাদ ও গবেষণার চর্চা মুসলিমদের জ্ঞানচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি জাতিকে এগিয়ে নিতে সঠিক শিক্ষাক্রম প্রণয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইসলামি ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে উঠলে তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, দেশ ও সমাজের প্রতি ভালোবাসা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা তৈরি হবে।’
আরও পড়ুন: আস-সুন্নাহর ১০ দিনের মুয়াজজিন প্রশিক্ষণ, ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন
ইসলামিকরণের ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন ড. শাহীন।
তিনি বলেন, ‘শুধু প্রতিষ্ঠানের কাঠামো বা ব্যবস্থাকে ইসলামিক করা যথেষ্ট নয়; ব্যক্তির মধ্যেও ইসলামি মূল্যবোধ ও নৈতিকতা তৈরি করতে হবে।’
এসময় ইসলামকে শুধু ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুশীলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সভ্যতা নির্মাণের একটি সামগ্রিক প্রকল্প হিসেবে দেখার আহ্বানও জানান এই ইসলামি স্কলার।
ড. শাহীন বলেন, ‘শিক্ষা যদি মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরি না করে, তাহলে শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ হয় না।’
আরও পড়ুন: ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ও উৎসব ভাতার নীতিমালা জারি
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং, সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ডিন প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. রমিত আজাদ।
আইন বিভাগের প্রধান মো. আবদুল্লাহ হিল গনীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইইই বিভাগের প্রধান প্রফেসর এরশাদুল হক চৌধুরী, সিজিইডির পরিচালক ড. মোহাম্মাদ আবুল কালাম আজাদ, ভর্তি বিভাগের পরিচালক আবদুল কাদের এবং ছাত্র বিষয়ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আবদুল মতিনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘ভবিষ্যতে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে এ ধরনের আরও সেমিনারের আয়োজন করা হবে।’ নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতা পেছনে ফেলে মানারাতকে সামনে এগিয়ে নিতে তিনি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বানও জানান।
এএম




