মেহেরপুরের গাংনীতে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ডিগ্রি প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় বই-গাইড খুলে এবং মুঠোফোন ব্যবহার করে উত্তর লেখার অভিযোগ উঠেছে। কাজিপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের এই ঘটনায় ভিডিও ফুটেজে অনিয়মে জড়িত কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাউবি কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাবিবুল্যাহ মাহমুদ।
হাবিবুল্যাহ মাহমুদ বলেন, ঘটনার পর নিয়ম অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমি নিজেও বর্তমানে ওই পরীক্ষা কেন্দ্রে অবস্থান করছি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত রয়েছেন। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
কতজন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে— এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে পারেননি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। তিনি বলেন, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে যাদের অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া অনিয়মের অন্যান্য বিষয় বাউবির শৃঙ্খলা কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হবে।
শৃঙ্খলা কমিটি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, ভিডিও ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান তিনি।
পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা শিক্ষক বা অন্য কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে মো. হাবিবুল্যাহ মাহমুদ বলেন, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, কাজিপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে বাউবির ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা চলাকালে কয়েকজন পরীক্ষার্থী বেঞ্চের ওপর বই ও গাইড খুলে রেখে উত্তর লিখছেন। কয়েকজন পরীক্ষার্থীর কাছে মুঠোফোনও দেখা যায়।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০০ টাকা নেওয়ার বিনিময়ে বই, গাইড ও মুঠোফোন ব্যবহার করে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকেরা পরীক্ষার্থীদের অনিয়মে বাধা দেননি— এমন অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনিয়ম চলাকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া পরীক্ষার অনিয়মের ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিরোধ এবং হামলার ঘটনা ঘটে বলেও স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এম/এফএ




