শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

জাবির মাঠ সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশাসনের স্থগিতাদেশের পরও চলছে কাজ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, জাবি
প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৩ এএম

শেয়ার করুন:

জাবির মাঠ সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশাসনের স্থগিতাদেশের পরও চলছে কাজ
জাবির মাঠ সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল-সংলগ্ন খেলার মাঠ সংস্কারে সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) লঙ্ঘন ও দরপত্র ছাড়াই কাজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে কাজ সাময়িকভাবে স্থগিতের নির্দেশ দিলেও তা উপেক্ষা করে ফের সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে ঠিকাদার আবুল হোসেন মাঠ সংস্কারের কাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধের চেষ্টা করেন। তবে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থীর বাধার মুখে তারা কাজ বন্ধ করতে পারেননি। এ সময় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের তর্ক-বিতর্কও হয়।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আবদুস সাত্তার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে বোঝানোর চেষ্টা করলেও কাজ বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার বিষয়ে সহকারী প্রক্টর ড. আবদুস সাত্তার বলেন, আজ সকালে পুনরায় কাজ শুরু হওয়ার খবর পেয়ে উপাচার্য আমাকে ঘটনাস্থলে যেতে বলেন। আমি গিয়ে শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করি যে, যেহেতু অনিয়মের অভিযোগে প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, তাই নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখতে হবে। জুমার নামাজের সময় হওয়ায় নামাজ শেষে বাকি কথা হবে বলে আমি চলে আসি।

কাজ চলমান থাকার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, মাঠের এই সংস্কারকাজটি বহুল প্রতীক্ষিত। আমরাও চাই কাজ হোক এবং শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার জায়গা পাক। তবে কোনো ভালো কাজ আমরা দুর্নাম নিয়ে শেষ করতে চাই না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অতিদ্রুত নিয়মবহির্ভূতভাবে চলমান কাজ বন্ধ করবে এবং তদন্ত শেষে সঠিক নিয়মে পুনরায় কাজ সম্পন্ন করার জন্য উদ্যোগ নেবে।

প্রশাসনের কাজ বন্ধের নির্দেশ সম্পর্কে অবগত না থাকার দাবি করে ঠিকাদার আবুল হোসেন বলেন, কাজ বন্ধ করার জন্য প্রশাসন কোনো বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, এমন কিছু আমি জানতাম না। আমি প্রতিদিনের মতোই সকালে এসে কাজ শুরু করেছি।

অন্যদিকে, কাজ বন্ধে বাধা দেওয়া শিক্ষার্থীরা বলছেন, অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত চললেও মাঠ সংস্কারের কাজ বন্ধ রাখা উচিত নয়।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ইতিহাস বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী শাকিল বলেন, আমাদের চাওয়া হলো, যেহেতু অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেহেতু তদন্ত হোক। পাশাপাশি মাঠের সংস্কারকাজও চলমান থাকুক।

এ বিষয়ে হল সংসদের ভিপি অমিত কুমার বণিক বলেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মাঠ সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই সংস্কারকাজ শুরু হয়েছিল বলে আমরা জানি। হঠাৎ করে কাজ বন্ধ করার কারণ শিক্ষার্থীদের সামনে স্পষ্ট করতে হবে। কোনো অভিযোগ বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটি থাকলে সেটি সংশোধন করা হোক। কিন্তু শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রয়োজনের একটি কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া কোনো সমাধান হতে পারে না।

এর আগে, গতকাল সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) লঙ্ঘন এবং কোনো ধরনের দরপত্র ছাড়াই মাঠ সংস্কারের কাজ দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলসংলগ্ন মাঠ সংস্কারে সরকারি ক্রয় বিধিমালা লঙ্ঘন এবং দরপত্র ছাড়াই কাজ দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মাঠ সংস্কারের চলমান কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মাহবুব কবিরকে সভাপতি করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— অধ্যাপক ড. খন্দকার শরিফুল হুদা এবং দর্শন বিভাগের অধ্যাপক জাকির হোসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুর রহমানকে কমিটির সদস্যসচিব করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটিকে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে তদন্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহবুব কবিরের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর