ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাগেরহাট জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন 'ম্যানগ্রোভ'-এর উদ্যোগে নবীন বরণ, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও আনন্দঘন সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে উক্ত কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম নাইমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আয়শার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা যদি সত্যিকারের অর্থে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকো এবং নিজেদের মাঝে উদারতা রাখো, তবে জীবনে অনেক কিছু অর্জন সম্ভব। ঠিকমতো মানুষকে সম্মান করলে, সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে এবং সাধারণ জীবনযাপন করলে আল্লাহর রহমত তোমাদের ওপর থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের জীবনের চূড়ান্ত গন্তব্য কোথায়—তা কেবল মহান সৃষ্টিকর্তাই জানেন। এই সংগঠনকে কার্যকর রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের সঠিক নার্সিং করতে হলে আমাদের দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বাগেরহাটের সাথে তার আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন।
তিনি তার শিক্ষা জীবনের প্রারম্ভিক দিনগুলো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে হলে অবস্থানের অভিজ্ঞতা, মেস জীবনের দিনগুলো এবং তৎকালীন বাগেরহাটের অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা স্মরণ করে বলেন, নিজের শিকড়, গ্রাম ও মাটিকে কখনোই ভোলা যাবে না। অঞ্চল বা দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে বাগেরহাটের সন্তান হিসেবে একে অপরের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে হবে এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লুৎফর রহমান দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করেন। তিনি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন এবং শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজ নিজ লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের পক্ষে সম্প্রতি ৪৭তম বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থী বর্ণা ও মইনুল ইসলাম তাদের অনুভূতির কথা জানান।
বর্ণা বলেন, বাগেরহাটের সন্তান হিসেবে পরিচয় দেওয়া অত্যন্ত গর্বের। তিনি নবীনদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করার পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধ থাকার পরামর্শ দেন।
মইনুল ইসলাম নিজের সংগ্রাম ও সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, লক্ষ্যচ্যুত হলেও হাল ছেড়ে না দিয়ে লেগে থাকাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অনুভূতি ব্যক্ত করেন ফার্মেসি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ইমন। তিনি বলেন, রামপালের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্নপূরণ তার জন্য এক বিশাল অর্জন।
তিনি বাবা-মা ও শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং নিজেকে দক্ষ ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং বাগেরহাটের বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়।
এআরএম




