বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

কারিগরি শিক্ষা আধুনিকায়নে চীনের সহযোগিতা চান শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম

শেয়ার করুন:

কারিগরি শিক্ষা আধুনিকায়নে চীনের সহযোগিতা চান শিক্ষামন্ত্রী

বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ ও উৎপাদনশীল জনশক্তিতে রূপান্তর করতে উচ্চমানের কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) চীনের গুয়াংডং প্রদেশের কিংইউয়ান শহরে গুয়াংডং ভোকেশনাল সিটিতে আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বিনিময়’ অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে এসব কথা বলেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী বিপুল সম্ভাবনার প্রতীক। সেই সম্ভাবনাকে দক্ষ ও উৎপাদনশীল জনশক্তিতে রূপান্তর করতে উচ্চমানের কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নে চীনের অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষা, আধুনিক দক্ষতা প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব এবং কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষায় বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষা, প্রযুক্তি ও কারিগরি প্রশিক্ষণে চীনের অর্জনের প্রশংসা করে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা সংস্কারে দেশটির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আগ্রহের কথা জানান।

‘চীন-বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বিনিময়’ অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি ও শিল্প-শিক্ষার সমন্বয়ের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা জোরদার করা।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, বৃত্তি, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের শিক্ষা বিনিময় আরও গভীর করা সম্ভব। এ ধরনের সহযোগিতা কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং টেকসই ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া বলেন, বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে পাঠ্যক্রম সংস্কার, উন্নত প্রযুক্তি প্রবর্তন ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ চালু করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে গুয়াংডং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ট্রেড ভোকেশনাল কলেজ। এতে গুয়াংডং ভোকেশনাল সিটি ও গুয়াংডং প্রদেশের ১১টি কারিগরি ও ভোকেশনাল কলেজ অংশ নেয়।

অনুষ্ঠানে গুয়াংডং ‘চাইনিজ + ভোকেশনাল স্কিলস’ ইন্ডাস্ট্রি-এডুকেশন ইন্টিগ্রেশন অ্যালায়েন্স উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে ভাষা শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্প-শিক্ষা সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে।

দুই দেশের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্প-সংযুক্ত প্রশিক্ষণে বাস্তব ও টেকসই অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে শিক্ষামন্ত্রী ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া রয়েছেন।

সফরের অংশ হিসেবে প্রতিনিধি দল ‘বেইদৌ+’ ডিজিটাল সাপ্লাই চেইন ল্যাবরেটরি পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা রোবোটিক্স, রোবট প্রোগ্রামিং ও চীনা চা সংস্কৃতির প্রদর্শনীও প্রত্যক্ষ করেন। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে গুয়াংডংয়ের কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও শিল্পমুখী শিক্ষার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অভিজ্ঞতা নেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা।

এমএইচ/এএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর