ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অধিকার, মানসম্মত শিক্ষা ও আধুনিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৩ দফা দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি চলমান শিক্ষার্থীদের একাডেমিক মাইগ্রেশন বিষয়ে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারিরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটায় ঢাকা কলেজে শহীদ মিনারের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা।
২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি ডিসিইউ প্রশাসন চলমান শিক্ষার্থীদের একাডেমিক মাইগ্রেশনের বিষয়ে গণভোট আয়োজন করে। এতে ১৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে মাইগ্রেশনের পক্ষে মত দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার গণভোটের ফলাফল প্রকাশ করা হলেও এখন পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জটিলতা দ্রুত নিরসনে সব সেশনের পরীক্ষা দ্রুত শেষ করতে হবে। বিশেষ করে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ এবং প্রথম বর্ষের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানাই।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত একাডেমিক রোডম্যাপ এবং শিক্ষার্থীদের মাইগ্রেশন বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানান ফাহাদ।
মাইগ্রেশন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। ফাহাদ বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা যদি কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে, তাহলে এর দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিতে হবে। তবে শিক্ষার্থীরা ঢাকা শহরকে অস্থিতিশীল করতে চান না। তারা গণতান্ত্রিক উপায়ে তাদের যৌক্তিক দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ডিসিইউ উপাচার্যও সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ১৩ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপযুক্ত শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা এবং বিদ্যমান শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করা।
২. শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। গণভোটের ফলাফল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ এবং ফল প্রকাশের পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চলমান ব্যাচগুলোকে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৩. ডিজিটাল লার্নিং রিসোর্স, ই-জার্নাল, ই-বুক ও ডেটাবেসে সব শিক্ষার্থীর সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
৪. বিষয়ভিত্তিক প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলা ও ইংরেজি— উভয় ভাষায় পাঠদান ও শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ রাখা।
৫. আধুনিক ও প্রয়োজনীয় ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত করা।
৬. বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা চালু ও সম্প্রসারণ করা এবং প্রতিটি ক্যাম্পাসের জন্য দুটি করে বাস বরাদ্দ দেওয়া।
৭. শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
৮. গবেষণাবান্ধব পরিবেশ ও অবকাঠামো তৈরি এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের গবেষণায় অংশগ্রহণ বাড়ানো।
৯. শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গবেষণার জন্য নিয়মিত ও পর্যাপ্ত গবেষণা তহবিল চালু করা।
১০. বাস্তবসম্মত একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে সময়মতো ক্লাস, পরীক্ষা, ফল প্রকাশ ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা।
১১. ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও মানোন্নয়নের লক্ষ্যে কার্যকর ডুয়াল পরীক্ষা পদ্ধতি চালু এবং পরীক্ষার কাঠামো স্পষ্ট করা।
১২. ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই সাতটি ক্যাম্পাসে যুগোপযোগী ও প্রয়োজনীয় নতুন বিষয় সংযোজন করা।
১৩. উপযুক্ত স্থানে দ্রুত ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া এবং টিএসসিকেন্দ্রিক খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিভিন্ন ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমসহ সহশিক্ষা কার্যক্রমের সুযোগ নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, তাদের দাবিগুলো শুধু একাডেমিক মাইগ্রেশনকেন্দ্রিক নয়; বরং ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিকে একটি আধুনিক, গবেষণাবান্ধব ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এসব দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। তারা দ্রুত এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এম/এফএ




