জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (পাস) ও স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে আবারও রোভার স্কাউটিং কোর্স অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, আত্মিক বিকাশ, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে স্কাউটিংকে যুক্ত করে কোর্সটি আধুনিক ও বিশ্বমানের করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে স্কাউটস ভবনে বাংলাদেশ স্কাউটস রোভার অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কমিটির ১৫৬তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ এসব কথা জানান।
সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কাউটিং বিষয়ে এক ক্রেডিটের কোর্স চালুর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হয়। এ বিষয়ে একটি কনসেপ্ট পেপার তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মোরাল এডুকেশন ও স্কাউটিংকে একীভূত করে কোর্সের কাঠামো কী হবে এবং এর ক্রেডিট কত নির্ধারণ করা হবে, তা নিয়েও কাজ করা হবে।
ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, শিক্ষার্থীদের মরাল এডুকেশনের সঙ্গে স্পিরিচুয়াল ও সোসিও-কালচারাল শিক্ষার সমন্বয় করে স্কাউটিং কোর্সটি নতুনভাবে সাজানো হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে স্কাউটিংকে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ড কাপে’ স্কাউটদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সম্পৃক্ত করার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি স্কাউটিংয়ের কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান করতে ‘ভিজিবল স্কাউটিং’ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আগামী ডিসেম্বরে স্কাউটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন উল্লেখ করে ড. আমানুল্লাহ বলেন, অনুষ্ঠানটি সফলভাবে আয়োজনের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। মুট, অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্পসহ বিভিন্ন স্কাউটিং কার্যক্রম নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে আয়োজনের পরামর্শও দেন তিনি।
স্কাউটিংয়ের সঙ্গে ভাষা শিক্ষার সমন্বয়ের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। থার্ড ল্যাংগুয়েজ শিক্ষার সঙ্গে স্কাউটিংকে কীভাবে যুক্ত করা যায়, তা নিয়ে কাজ করার কথা বলেন তিনি। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাংগুয়েজ ক্লাবের কার্যক্রমে একজন রোভার স্কাউটকে যুক্ত করার নির্দেশনা দেন।
আনন্দময়, সৃজনশীল ও জীবনমুখী শিক্ষার অংশ হিসেবে প্রতি বছর ‘হ্যাপি লার্নিং ডে’ উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও সভায় জানানো হয়।
পরিবেশ সংরক্ষণে স্কাউটদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ড. আমানুল্লাহ বলেন, ‘আমরা ২ কোটি গাছ লাগাবো। এই কর্মসূচিতে স্কাউটদের সম্পৃক্ত করতে চাই।’ শুধু বৃক্ষরোপণ নয়, লাগানো গাছগুলো যাতে টিকে থাকে, সে জন্য পরিচর্যা ও সংরক্ষণেও স্কাউটদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
স্কাউটিংয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে বেসরকারি খাত ও সমাজের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।
তিনি বলেন, সবকিছুর জন্য সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। সমাজহিতৈষী ব্যক্তিদেরও এগিয়ে আসতে হবে। অনেকেই ভালো কাজে সহযোগিতা করতে চান, কিন্তু উপযুক্ত ক্ষেত্র পান না। স্কাউটিংয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগে তাদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।
সভায় রোভার স্কাউটদের নেতৃত্ব বিকাশ, স্বেচ্ছাসেবা, নৈতিকতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি যুক্ত করার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ স্কাউটস রোভার অঞ্চলের কমিশনার প্রফেসর ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন, বাংলাদেশ স্কাউটস রোভার অঞ্চলের সহসভাপতি প্রফেসর মোহা. শহীদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম সেলিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. শহীদুল আলম, ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর এ জেড এম রেজাউল করিম খানসহ নির্বাহী কমিটির ৩৪ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
এম/এএইচ



