শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভিসির বক্তব্য প্রত্যাহার ও দুঃখ প্রকাশের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৫ এএম

শেয়ার করুন:

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভিসির বক্তব্য প্রত্যাহার ও দুঃখ প্রকাশের
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. নূরুল ইসলাম

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নূরুল ইসলামের বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের সদস্যদের নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের সদস্যরা। একই সঙ্গে উপাচার্যের বক্তব্য প্রত্যাহার করে দুঃখ প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।

বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের সদস্যদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, সম্প্রতি এক সভায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য মন্তব্য করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় চিন্তা-চেতনা ও গবেষণার সক্ষমতা বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে নেই। দায়িত্বশীল পদে থেকে সরকারি কলেজ শিক্ষকদের সম্পর্কে এ ধরনের অবমাননাকর ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা অনভিপ্রেত এবং এর মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ ক্যাডার সার্ভিসের সদস্যদের জ্ঞান, মেধা, গবেষণা ও একাডেমিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষার ইতিহাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠারও বহু আগে থেকে শুরু হয়েছে। উনিশ শতকের মধ্যভাগ থেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের মাধ্যমে এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার বিস্তার ঘটে। পরবর্তীতে সরকারি কলেজের শিক্ষকরা দেশের উচ্চশিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ও শিক্ষার্থীদের পাঠদানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।

বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের সদস্যরা বলেন, দেশের শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চায় সরকারি কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। অনেক সাহিত্যিক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। ফলে পুরো ক্যাডার সার্ভিসের সদস্যদের চিন্তা, গবেষণা ও একাডেমিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ঐতিহ্যবাহী শিক্ষকসমাজের প্রতি অবমাননার শামিল।

প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়, আইন অনুযায়ী ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে একীভূতভাবে পরিচালিত হওয়ার কথা সাত কলেজের। একই সঙ্গে আইন অনুযায়ী কলেজগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম, বৈশিষ্ট্য, অবকাঠামো, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক এবং বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা অক্ষুণ্ন রাখার বিধান রয়েছে। তাই আইন বাস্তবায়নের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মানসম্মত ও কার্যকর একাডেমিক সেবা নিশ্চিত করা, কোনো শ্রেণির শিক্ষককে হেয় করা নয়।

প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, সাত কলেজে উচ্চতর গবেষণাভিত্তিক শিক্ষক প্রয়োজন হলে সরকারকে পিএইচডিধারী ও অধিকতর যোগ্য শিক্ষক পদায়নের প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ উপাচার্যের রয়েছে। কিন্তু তা না করে পুরো ক্যাডার সার্ভিসের শিক্ষকসমাজের চিন্তা, গবেষণা ও একাডেমিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অত্যন্ত অসম্মানজনক।

এছাড়া সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সমস্যা সমাধানে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত বলেও প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে মানসম্মত শিক্ষা ও একটি গতিশীল শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবাদলিপিতে চার দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের সদস্যদের সম্পর্কে দেওয়া অবমাননাকর বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করে দুঃখ প্রকাশ করা; ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন, ২০২৬-এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করে সাত কলেজের কার্যক্রম পরিচালনা করা; শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা।

প্রতিবাদলিপিতে সতর্ক করে বলা হয়, দাবিগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হলে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের সদস্যরা শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি গ্রহণে বাধ্য হবেন।


এম/এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর