শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ডিসিইউ ভিসিকে ‘থামানোর’ আহ্বান সাবেক ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৫ এএম

শেয়ার করুন:

ডিসিইউ ভিসিকে ‘থামানোর’ আহ্বান সাবেক ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষের
ঢাকা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার।

ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডিসিইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলামের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন ও উপাচার্যদের সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার। একই সঙ্গে তিনি উপাচার্যের কর্মকাণ্ড নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার বলেন, ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে একটি বৃহত্তর মর্যাদাপূর্ণ সার্ভিসের অন্তর্ভুক্ত সরকারি কলেজ শিক্ষকদের সম্পর্কে মাননীয় অর্থমন্ত্রীর সামনে আপত্তিকর ও বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য করার অর্থ হলো তিনি ঐ দায়িত্বে থাকার যোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন।’

তিনি অভিযোগ করেন, 'শুধু তাই নয়, গত বেশ কিছু দিন তিনি ও তার কোষাধ্যক্ষ মত বিনিময়ের নামে ঢাকার ৭ (সাত) কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থী মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে শিক্ষাঙ্গনের স্থিতিশীল পরিবেশ বিনষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন। শিক্ষার্থীদের সামনে তার শিক্ষককে অসম্মানিত করছেন, উস্কে দিচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা লাটে উঠছে। সরকারের বিভিন্ন এজেন্সির বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।'

এ ধরনের কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন সাবেক এই অধ্যক্ষ।

পোস্টে তিনি বলেন, 'এই ভদ্রলোকের উত্তরসূরিরা একই অপচেষ্টা চালালেও সার্বিক বিবেচনা, সাত কলেজের অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষা এবং শিক্ষাঙ্গণে স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিতে ইনটেরিম সরকার ও পরবর্তীতে বর্তমান সরকার ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ ২০২৬ পাশ করে এবং ঢাকার সরকারি ৭ (সাত) কলেজের স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তা নিশ্চিত করে। আপাতত ভাড়া বাড়িতে ও পরবর্তীতে নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর কথা বিধিতে সুস্পষ্ট।'

তিনি আরও বলেন, 'এই লোক কিছুদিন আগেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ছিলো। তখন গর্ব করে বলতো, ৪০ লক্ষ শিক্ষার্থী নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয়। ওখানে আয় রোজগার বেশ ভালো ছিলো। সাত কলেজে এক্ষেত্রে খরা বিদ্যমান।'

আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার বলেন, ‘শুধু গায়ে গতরে বড় হলে চলবে না, বুঝতে হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সাত কলেজের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ আর সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কেবলই একাডেমিক কর্তৃপক্ষ।  আবার বিশ্ববিদ্যালয় চলবে সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে। এসব পদে পদায়নের পূর্বে এ ধরনের কর্মকর্তাদের জন্য নায়েম বা পিএটিসি-তে অন্তত তিন মাসের সিনিয়র স্টাফ কোর্সের ব্যবস্থা করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ করছি।'

পোস্টের শেষাংশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন ও উপাচার্যদের সংগঠনের প্রতি অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলামের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন সমূহ ও মাননীয় উপাচার্যদের সংগঠনের প্রতি বিনীত অনুরোধ, এই লোককে থামান, প্লিজ।’

এর আগে শুক্রবার সাভারের ব্যাক সিডিএমে ইউজিসির উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারণী সংলাপে সাত সরকারি কলেজ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে মন্তব্য করেন ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ও সাত কলেজে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকরা একই সঙ্গে ইন্টারমিডিয়েট, ডিগ্রি এবং অনার্স-মাস্টার্স পড়াচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর জন্য শিক্ষকদের যে চিন্তা-চেতনা ও গবেষণা থাকা দরকার, সেটা তাদের নেই।’

এম/এমএইচআর

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর