বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাসিক পেনশন, উৎসব ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা প্রদান সহজ করতে অটোমেশন পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশ গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গত বছরের ২৭ মে উপাচার্যের আদেশে অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক মো. আলী রেজা ফারুককে সভাপতি করে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্য ছিলেন আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক মো. রুস্তম আলী, হিসাব শাখার অতিরিক্ত ট্রেজারার মো. সাজ্জাদ হোসেন মণ্ডল এবং সংস্থাপন শাখা-৫ (পেনশন)-এর অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো. সাহেবুল ইসলাম খান। হিসাব শাখার পেনশন গ্রুপের ডেপুটি ট্রেজারার মো. দেলোয়ার হোসেনকে সদস্যসচিব করা হয়।
কমিটির আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক হুমায়ুন কবির ও রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ মো. হেলাল উদ্দীন।

কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, বাকৃবির অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনেকে দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিদেশে অবস্থান করেন। ফলে প্রতি মাসে নির্ধারিত সময়ে বিল ফরম হিসাব শাখায় জমা দিতে তাঁদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এই ভোগান্তি দূর করতেই পেনশন ব্যবস্থা সহজীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কমিটির প্রধান সুপারিশের মধ্যে রয়েছে পেনশন, উৎসব ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইন বা অটোমেশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালনা করা। অটোমেশন চালু হলে মাসিক পেনশন ও ভাতা অব্যাহত রাখার জন্য প্রতি মাসে পৃথকভাবে বিল ফরম জমা দেওয়ার বিধান বাতিলেরও সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া পেনশনভোগীদের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখার সার্ভারে একটি সুরক্ষিত ডেটাবেজ তৈরি ও সংরক্ষণের সুপারিশ করা হয়েছে। এর ফলে পেনশনভোগীরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অবস্থান করেও অনলাইনে ‘লাইভ ভেরিফিকেশন’ সম্পন্ন করে প্রচলিত নিয়মে পেনশন সুবিধা নিতে পারবেন।
প্রতিবেদন ও সুপারিশ হস্তান্তরের সময় উপাচার্য অধ্যাপক এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া কমিটির সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সেবক ও গর্বের অংশ। তাদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা যেন সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে দেওয়া যায়—এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’
উপাচার্য বলেন, ‘আমি আশা করি, এর মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ও অন্যান্য ভাতা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও গতিশীল হবে।’
তিনি আরও বলেন, কমিটির সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে দ্রুত বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এসএস




